চাঁদাবাজির মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর বাদী ও তার পরিবারের ওপর হামলা এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ঢাকার আদালতের শিক্ষানবিশ আইনজীবী খায়রুল ইসলাম খোকন। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন খায়রুল ইসলাম। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার চাতৈইলাভিটি গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে খায়রুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার প্রতিবেশীদের একটি দল পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তার কাছে বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় গত ১৪ জুন গাজীপুরের আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে শিল্প পুলিশ। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দেয় বলে জানান তিনি।
খায়রুল ইসলামের ভাষ্য, মামলার আসামিরা গত ৬ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান। এরপর তাদের লোকজন তার বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির সামনেই তাকে আটকে মারধর করা হয় এবং হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় খায়রুল ইসলামকে প্রথমে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তার আত্মীয় মোহাম্মদ রিফাত হোসেন বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। ওই মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
খায়রুল ইসলাম জানান, মামলার ১৫ আসামি গত রোববার গাজীপুরের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন জামিন পেয়েছেন। অন্য দুই আসামি নুরুন্নাহার ও সেতুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সংবাদ সম্মেলনে খায়রুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্ত হওয়া আসামিরা আবারও প্রকাশ্যে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িতে ফিরতেও ভয় পাচ্ছেন।
খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন মারাত্মক হুমকির মধ্যে আছি। প্রতিবেশী দুর্বৃত্তরা যেকোনো সময় আমাদের যে কাউকে হত্যা করতে পারে। আমরা বাড়িঘরে যেতে পারছি না। প্রশাসন আমাদের সাহায্য না করলে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে।’
নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাদের পরিবারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।
সময়ের আলো/জেডি