সংগৃহীত ছবিস্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়া বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। কিন্তু এর সঙ্গে কমবে এমন কিছু বাণিজ্য সুবিধা, যার ওপর দেশের রফতানি অনেকটাই নির্ভরশীল।
অন্যদিকে গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। আর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, চলতি অক্টোবর মাসেই এই বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) এক হিসাব অনুযায়ী, এলডিসি হিসেবে পাওয়া শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা উঠে গেলে বাংলাদেশের রফতানি আয় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ বা বছরে প্রায় ৬৩৮ কোটি ডলার কমতে পারে।
এ হিসাব ২০১৮ সালের বাণিজ্য-উপাত্ত ধরে করা। তাই এটি ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য চিত্র; বর্তমান রফতানি থেকে ঠিক কত আয় কমবে, তার হিসাব নয়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ কয়েকটি বড় বাজারে শুল্ক বাড়লে পোশাক রফতানির প্রতিযোগিতা কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান এক অনুষ্ঠানে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে একটি উপস্থাপনায় এসব তথ্য দেন। মোস্তফা আবিদ খান তার উপস্থাপনায় ডব্লিউটিও তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করেছেন।
উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, বাজারসুবিধা হারানোর পাশাপাশি রফতানি প্রণোদনা, ওষুধশিল্প, আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাঁদা এবং উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে রফতানি বহুমুখীকরণ, ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার মতো সংস্কার জরুরি।
বিএফটিআইয়ের সুপারিশ হলো, উত্তরণের পর দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাজারসুবিধা ধরে রাখার পাশাপাশি পণ্য ও বাজার-দুই দিকেই রফতানি বাড়ানো। বিএফটিআইয়ের উপস্থাপনায় ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা, রাজস্ব সংগ্রহ, বিনিয়োগ পরিবেশ, প্রযুক্তি, শ্রমমান ও উৎপাদনক্ষমতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব সংস্কার কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর উত্তরণের পর বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অনেকটাই নির্ভর করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ কয়েকটি বড় বাজারে শুল্ক বাড়লে পোশাক রফতানির প্রতিযোগিতা কঠিন হতে পারে। নানা ধাপ পেরিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় ঠিক করা হয়। কিন্তু বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশকে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে।
কোন বাজারে রফতানি বেশি কমতে পারে : বিএফটিআইয়ের উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, ডব্লিউটিওর হিসাব অনুযায়ী, অগ্রাধিকারমূলক শুল্কসুবিধা উঠে গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রফতানি ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ কমতে পারে। কানাডায় কমতে পারে ৪২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, জাপানে ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
কিছু দিন বাজার সুবিধা থাকবে : বিভিন্ন দেশ উত্তরণ পরবর্তী বাংলাদেশকে বাড়তি সময়ের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা দিতে রাজি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সব পণ্যে সুবিধা বহাল থাকবে। কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান ও তুরস্ক তিন বছর সুবিধা রাখবে। চীন দুই বছর সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে।
এরপর বাংলাদেশকে নতুন বাণিজ্যব্যবস্থায় যেতে হবে। কানাডায় জেনারেল প্রেফারেনশিয়াল ট্যারিফ প্লাস, ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি প্লাস এবং যুক্তরাজ্যে এনহ্যান্সড প্রেফারেন্স ব্যবস্থার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
বিএফটিআইয়ের উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রফতানির হিসাব বিবেচনা করলে উত্তরণের পর দুই বছর বাজার সুবিধার শর্ত অপরিবর্তিত থাকলে মোট রফতানির ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৪ হাজার ৫১৯ কোটি ডলারের রফতানি এ সুবিধার আওতায় থাকবে। তিন বছর সুবিধা থাকলে মোট রফতানির ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৪ হাজার ৩৫৯ কোটি ডলারের বাজার সুবিধা বজায় থাকবে। উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছানো পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষ সুবিধার আওতায় থাকতে পারে ২ হাজার ২৪৬ কোটি ডলারের রফতানি, যা মোট রফতানির ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সংস্কার কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর উত্তরণের পর বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অনেকটাই নির্ভর করবে।
পণ্যের উৎসের নিয়ম কঠিন হবে : এলডিসি উত্তরণের পর নতুন বাণিজ্যব্যবস্থায় সুবিধা পেতে পণ্য কোথায় তৈরি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে হয়। এ নিয়মকে পণ্যের উৎসের নিয়ম বলা হয়। কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের নতুন ব্যবস্থায় কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে এ শর্ত কঠিন হতে পারে।
চামড়াজাত পণ্যে কানাডার জিপিটি প্লাস ব্যবস্থায় ৬০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুল্কশ্রেণি পরিবর্তন অথবা ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন লাগবে। যুক্তরাজ্যে শুল্কশ্রেণি পরিবর্তন অথবা ২৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন প্রয়োজন।
সিরামিক পণ্যের ক্ষেত্রে কানাডায় ৬০ শতাংশ মূল্য সংযোজন লাগবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে শুল্কশ্রেণি পরিবর্তন বা ৫০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত রয়েছে। গৃহসজ্জার কাপড়, কৃষিপণ্য ও মাছের ক্ষেত্রেও বাজারভেদে আলাদা নিয়ম মানতে হবে। ফলে শুধু শুল্কের হার নয়, পণ্য উৎপাদনের ধরন ও উপকরণ সংগ্রহের নিয়মও রফতানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
পোশাকের ওপর রফতানির নির্ভরতা বেশি : দেশের রফতানির বড় অংশ তৈরি পোশাকের কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিএফটিআইয়ের উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০টি তৈরি পোশাকপণ্য থেকে এসেছে মোট রফতানির ৫৩ শতাংশেরও বেশি। আগের তিন অর্থবছরেও এ পণ্যগুলোর অংশ ছিল ৫৩ থেকে ৫৬ শতাংশের মধ্যে।
ওই অর্থবছরে সুতির টি-শার্ট রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৭০০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। পুরুষদের সুতির ট্রাউজার থেকে ৫০৭ কোটি ৬০ লাখ, নারীদের সুতির ট্রাউজার থেকে ৩২৬ কোটি ১০ লাখ এবং সুতির জার্সি বা পুলওভার থেকে ২৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার এসেছে।
বিএফটিআইয়ের উপস্থাপনায় রফতানি বহুমুখীকরণে কাঠামোগত অগ্রগতি না হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ রফতানিতে তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন পণ্য ও খাতের অংশ এখনও বাড়েনি।
অর্থনীতির কিছু দুর্বলতা : রফতানি নির্ভরতার পাশাপাশি বিনিয়োগ, রাজস্ব সংগ্রহ ও বিদেশি বিনিয়োগেও দুর্বলতা রয়েছে। বিএফটিআইয়ের উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, কর-জিডিপি অনুপাত দুর্বল হওয়ায় সরকারি বিনিয়োগের সামর্থ্য সীমিত থাকে। বিদেশি ঋণের গড় সুদের হার ২০১৬ সালে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশের নিচে ছিল। ২০২৩-২৪ সালে তা ২ দশমিক ২৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগও কমেছে। ২০১৯ সালে প্রায় ১৮৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ এসেছিল। ২০২৪ সালে তা কমে ১২৭ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব : এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রফতানির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ভর্তুকির ক্ষেত্রে ডব্লিউটিওর নিয়ম মানতে হবে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয় ৮ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ছিল ৮ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেওয়া হয় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
রফতানিকারকদের করছাড়ও দেওয়া হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১০২ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
বিএফটিআইয়ের উপস্থাপনায় নগদ প্রণোদনা ও করছাড়ের বদলে কারখানা আধুনিক করা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বাড়ানো, উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত সহায়তা এবং শ্রম ও পরিবেশগত মান পূরণে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ওষুধ শিল্পে প্রভাব পড়তে পারে : দেশের ওষুধ শিল্প দেশের মোট চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইনসুলিন, হরমোন ও ক্যানসারের ওষুধও তৈরি করে।
বিএফটিআইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমানে তৈরি জেনেরিক ওষুধের দামে তাৎক্ষণিকভাবে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম। তবে উত্তরণের তিন থেকে চার বছর পর নতুন পেটেন্ট পাওয়া ওষুধের দাম বাড়তে পারে। পেটেন্টধারী বিদেশি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনের জন্য বেশি রয়্যালটি চাইতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাঁদা বাড়তে পারে : এলডিসি থেকে উত্তরণের পর জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও কিছু বিশেষায়িত সংস্থায় বাংলাদেশের চাঁদার হিসাব বাড়তে পারে। বিএফটিআইয়ের উপস্থাপনায় জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটে চাঁদার হার শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ থেকে প্রায় শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাজেট, বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নেও চাঁদা বাড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার উন্নয়ন সহায়তা বন্ধ হবে না, এমন কথাই বলেছে বিএফটিআই।
বিএফটিআইয়ের উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, উন্নয়ন সহায়তার কিছু শর্ত ইতিমধ্যেই বদলাচ্ছে। এর কারণ শুধু এলডিসি উত্তরণ নয়, বাংলাদেশের নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং উন্নয়ন সহযোগীদের নিজস্ব নীতি।
উত্তরণের প্রস্তুতিতে সংকট : বাংলাদেশ ২০২১ সালে উত্তরণের সুপারিশ পাওয়ার পর পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল পেয়েছিল। তবে এ সময় কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ, ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নসহ নানা সংকট দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ এবং যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যচুক্তিও প্রতিযোগিতার চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করে বিএফটিআই।
বিএফটিআই বলছে, দেশের ভেতরে ২০২৪ সালের আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়ম, শিল্পে জ্বালানিসংকট এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রস্তুতিকে কঠিন করেছে।
বিএফটিআইয়ের উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, এসব কারণে প্রস্তুতিকালের বড় অংশ সংকট সামলাতে চলে গেছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নিতে সরকার প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ করেছে।
পথনকশা কী : বিএফটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, সরকার মসৃণ, টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণের জন্য ২০২৬-২৯ মেয়াদের জাতীয় পথনকশা (রোডম্যাপ) নিয়েছে। এতে চারটি পর্যায়ে কাজের কথা বলা হয়েছে।
২০২৬-২৭ সাল : সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, ব্যবসার নিয়ম সহজ করা, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সুশাসন, বাণিজ্য সহজ করা এবং বিনিয়োগকারীর সুরক্ষায় জোর দেওয়া হবে।
২০২৬-২৮ সাল : রফতানি বহুমুখীকরণ, পণ্যের মান ও স্বীকৃতি, বাজারসুবিধা নিয়ে আলোচনা, ওষুধশিল্প ও মেধাস্বত্বের প্রস্তুতি, দক্ষ জনশক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদেশি বিনিয়োগ, বন্দর দক্ষতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে কাজ হবে।
২০২৬-২৯ সাল : শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া, শ্রমমান, নতুন পণ্য ও ব্র্যান্ড, ডিজিটাল সরবরাহব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কাজে বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করা হবে।
২০২৯ সালের দ্বিতীয়ার্ধ : উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন হবে। নীতি, শুল্ক, অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি চিহ্নিত করে তা পূরণের কাজ হবে। চূড়ান্ত জাতীয় প্রস্তুতি প্রতিবেদন প্রকাশ এবং উত্তরণের পর প্রতিযোগিতা, রফতানি ও ঋণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা