প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঘাটটি গত ৩-৪ বছর ধরে পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। ছবি : সময়ের আলোকুমিল্লার হোমনায় সরকারি অর্থে নির্মিত পাকা ঘাট থাকলেও সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। মূল সড়ক থেকে ঘাটের দূরত্ব প্রায় ১৫ ফুট। মাঝখানে নেই কোনো সংযোগ পথ। ফলে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঘাটটি গত ৩-৪ বছর ধরে পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।
উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের কানাই সাহা ঘাট এলাকায় তিতাস নদীর তীরে এ ঘাট নির্মাণ করা হয়। প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের গোসল ও দৈনন্দিন কাজে নদীতে যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে সড়ক থেকে ঘাটে যাওয়ার পথ না থাকায় এর সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
ঘাটটি নির্মাণের পরও কেন ব্যবহার উপযোগী করা হয়নি, তা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পূজামণ্ডপ কমিটির দায়িত্বশীলদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।
চান্দেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক বলেন, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুরোধে প্রতিমা আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে সড়ক থেকে কিছুটা দূরে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মাঝের ফাঁকা জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে মাটি ভরাট করে সংযোগ পথ তৈরি করবেন, এমন কথা ছিল। কিন্তু পরে তারা আর সেই কাজ করেননি।
অন্যদিকে, পূজামণ্ডপ কমিটির এক প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকৌশলীদের ভুল নকশা ও ঘাটের খাড়া সিঁড়ির কারণে এটি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়ক থেকে ঘাট পর্যন্ত সংযোগ পথ তৈরির জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে মাটি ভরাটের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজটি আর করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘রামকৃষ্ণপুর রাম কানাই রায়ের বাড়ি দুর্গাপূজা মণ্ডপ’-এর প্রতিমা বিসর্জনের সুবিধার্থে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়। তবে প্রকল্পটির দরপত্র, প্যাকেজ ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট সরকারি নথি পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে ওই এলাকার শুভ নামের এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতার মাধ্যমে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজটি বাস্তবায়নের তথ্য পাওয়া গেছে।
হোমনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোতাহার হোসেন বলেন, আমি দুই দিন হলো যোগদান করেছি। বিস্তারিত তথ্য না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।
সময়ের আলো/এনএন