প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণ। ছবি : সংগৃহীতনেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণ (২১) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শহীদ মিনার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে এসআরবি-১৪ ময়মনসিংহ। বুধবার তাঁকে দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে, সাংবাদিক আলিফ হত্যায় জড়িত সন্দেহে গত শনিবার রাতে সাজিবুল ইসলাম অপূর্বকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ নিয়ে এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হলো।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাজিবুল ইসলাম অপূর্বকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
গত ১৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার বিরিশিরি এলাকার তেলুঞ্জিয়ায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সময় তিনি বাড়ির সামনের একটি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় সেখানে অবস্থান নেওয়া দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ সাজিবুল ইসলাম অপূর্বকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার তাঁকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখালেখি করতেন।
নিহত সাংবাদিকের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের চারুলিয়া মাইজপাড়া গ্রামে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে দুর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। তাঁর চার বছর বয়সী একটি মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সাংবাদিক আলিফের মরদেহ নেত্রকোণা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর গ্রামের বাড়ি চারুলিয়া মাইজপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন সাংবাদিকেরা।
সময়ের আলো/এনএন