তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ছবি : সময়ের আলো নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা পরিদর্শন করেন। কমিটির নেতৃত্ব দেন নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াত।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, নাটোর সড়ক বিভাগের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক আক্তার হামিদ, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার শর্মা, বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বপন চন্দ্র হোড় এবং বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত আরপি নাইস এ পরিবহনের বাসটির (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৪৪৪৫) ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না। নাটোর বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ চলতি বছরের ১৩ মে শেষ হয়েছে। তবে এর রুট পারমিটের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত।
দুর্ঘটনার সময় বাসটির চালকের আসনে মূল চালক, নাকি তাঁর সহকারী ছিলেন, বাসটি ওভারটেক করছিল কি না এবং অতিরিক্ত গতিসহ অন্য কোনো বিষয় দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার ঘটনায় বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেন বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেছেন। মামলায় বাস ও ট্রাকের চালকদের অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সোহেল রানা, বাগমারার আনোয়ার হক, নওগাঁর সাপাহারের রাসেল, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের শহিদুল ইসলাম ও তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে তাসফিয়া, শরীয়তপুরের জাজিরার জুয়েল মাতবর, সোহাগ হোসেন, শাহলাল, শাহিন, আব্দুস সামাদ, ঝিনাইদহ সদরের আবু কালাম এবং ফরিদপুর সদরের জমাদার।
নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। দুর্ঘটনা রোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
সময়ের আলো/এনএন