আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। ছবি : সংগৃহীতবেহাল হয়ে পড়েছে দেশের সব মহাসড়ক। মহাসড়কগুলো যেন হয়ে উঠেছে নিরাপত্তাহীনতার স্মারক। সড়কে প্রতিদিনই প্রাণ যায় মানুষের। কখনো বেপরোয়া গতির বাস-ট্রাকের সংঘর্ষ, কখনো মোটরসাইকেল বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুর্ঘটনা আবার কখনো মহাসড়কের গর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঝরছে প্রাণ। অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগে ঘাটতি— সব মিলিয়ে সড়কযাত্রা হয়ে উঠেছে অনিরাপদ।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সড়কের ডাকাতি-ছিনতাইয়ের আতঙ্ক। সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং দুর্ঘটনা কমাতে নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও নিশ্চিত হয়নি নিরাপদ যাতায়াত। এ পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এমন প্রেক্ষাপটে আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব তৈরি করেছে সংগঠনটি। তাদের আশঙ্কা, হাসপাতালগুলোর তথ্য বিবেচনায় নিলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ অতিরিক্ত গতি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেহাল সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, চালকের ক্লান্তি এবং গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহার। ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালকও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ান। ফিটনেসবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলো চাঁদার বিনিময়ে অদক্ষ চালক দিয়ে চালানো হয়। পুলিশের সামনে দিয়ে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চললেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
অন্যদিকে মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ায়। তা ছাড়া সড়কে চলাচলের নিয়ম-কানুন বেশিরভাগ চালক এবং পথচারীরা ঠিকমতো জানেন না। অধিকাংশ পথচারী ও গাড়ি চালকই জানেন না যে, ফুটপাথবিহীন সড়কের ডান দিক দিয়ে পথচারীদের চলতে হবে এবং গাড়ি চলবে বাম দিক দিয়ে। এতে পেছন থেকে যানবাহন কোনো পথচারীর ওপর উঠিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে না। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম থাকবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে বিআরটিএ মাঝে মধ্যে পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেও প্রচার খুবই কম।
বর্তমানে সড়ক নিরাপত্তার আরেকটি উদ্বেগের বিষয় মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই। গত ২ আগস্ট কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের টেকনাফ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে অস্ত্রধারী ডাকাতরা বিকাশ এজেন্টের কর্মীদের কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা লুটে নেয়। ডাকাতরা গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ব্যবহার করে বাসটির চলাচল বন্ধ করেছিল। এরপর ১৯ অক্টোবর কক্সবাজারের ঈদগাঁও-বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় দিনের বেলায় ডাকাতির ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মুঠোফোন ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের ঘটনা ঘটে। শতাধিক যাত্রী এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল কতটা কার্যকর।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এক নম্বর কারণ হচ্ছে সড়ক পরিবহনে অব্যবস্থাপনা আর চালক হচ্ছে চতুর্থ নম্বর। কারণ চালকের হাতে আনফিট গাড়ি ধরিয়ে দেন মালিকরা। গাড়ির ফিটনেস নিশ্চিত করার দায়িত্ব হচ্ছে মালিকের, চালকের নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক চালককে নিয়োগপত্র ও বেতন না দিয়ে ট্রিপ অনুযায়ী চুক্তিতে গাড়ি চালাতে দেন। তখন চালক বেশি বেশি ট্রিপের জন্য বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে সড়কের উন্নয়ন হয়েছে এবং গাড়ির গতিও বেড়েছে। কিন্তু স্পিড ক্যামেরাসহ গতি নিয়ন্ত্রণের আধুনিক কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি বাসে যদি জিআরএসপি ডিভাইস লাগানো থাকে তা হলে ৮০ কিলোমিটার গতিতে চালানোর নিয়ম থাকলে ৮১ কিলোমিটার চালালেই বাসটি বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ সেখানে সেন্সর লাগানো থাকে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
সাইদুর রহমান বলেন, ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলো চালানো হয় চাঁদা দিয়ে এবং এগুলো হেলপার ও অদক্ষ চালক দিয়ে চালানো হয়। এই অবৈধ গাড়িগুলোই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেপরোয়া চলে এবং দুর্ঘটনা ঘটায়। তা ছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও মানুষের আচরণও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
তিনি বলেন, দেখা যায় একই গণপরিবহন যখন ক্যান্টনমেন্টের মধ্য দিয়ে চলে তখন নিয়ম মানে। কারণ সেখানে আইন মানতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু ওই একই পরিবহন যখন জাহাঙ্গীর গেট পার হয় তখন আর নিয়ম মানতে চায় না, কারণ নগরীতে নিয়ম না মানলে তেমন কিছু হয় না। তাই পরিবহন চালক ও যাত্রী উভয়েরই আইন না মানার প্রবণতা গড়ে উঠেছে।
সাইদুর রহমান বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা সার্ভিস রোড তৈরি করতে হবে এবং সড়ক পরিবহন আইন বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহার, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং পথচারীদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ।
তিনি স্পিড ক্যামেরা, নিয়মিত নজরদারি, চালকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং অযোগ্য গাড়ি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, গণপরিবহনে নৈরাজ্যের জন্য দায়ী হচ্ছে যারা রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিট দেয় সেই বিআরটিএ। কারণ তারা যে শর্তে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিট দেয়, তা মানা হয় কি না সেটা সঠিকভাবে তদারকি করছে না।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক, সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, বেপরোয়া গতি এবং মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া বৃদ্ধি ও চলাচল এবং সড়কে ডিভাইডার না থাকার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ ছাড়া ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টো পথে যানবাহন চলাচল, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং চালকদের বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশের বেহাল দশাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যশোর-চুকনগর, লালমনিরহাট-বুড়িমারী, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি অংশের দুরবস্থার চিত্র সম্প্রতি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
যশোরের রাজাহাট থেকে খুলনার চুকনগর পর্যন্ত মনিরামপুর ও কেশবপুর হয়ে যাওয়া ৩৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গর্ত, পিচ উঠে যাওয়া ও দেবে যাওয়ার ঘটনা দেখা দিয়েছে। উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের ১০৫ কিলোমিটার অংশেও বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা সড়কপৃষ্ঠের কারণে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কটির অন্তত ৩০টি স্থানে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বড়াইচা-খামারেরচর সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশও দুর্ভোগের কারণ হয়েছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত এক গবেষণায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে দেশের ১০টি জাতীয় মহাসড়কে ৬৫৮টি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কে ২২৮টি দুর্ঘটনা ঘটে, যা গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত মহাসড়কগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
এসব দুর্ঘটনায় ৯২৮ জন হতাহত হন। গবেষণায় ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে ৯৮টি, ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ৭৯টি এবং ঢাকা-আরিচা-বাংলাবান্ধা মহাসড়কে ৬৫টি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব মহাসড়কের জরুরিভাবে নিরাপত্তা উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে— এমন সড়কের তালিকায় রেখেছে গবেষণাটি। এতে দেখা গেছে, মুখোমুখি সংঘর্ষ ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ধরন। এ ধরনের দুর্ঘটনায় ৬৯৫ জন নিহত হয়েছেন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। তবে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়ক মানেই পুরো সড়কটি বেহাল, এমন নয়। কোথাও সড়কের নকশা, কোথাও দ্রুতগতির যানবাহনের চাপ, আবার কোথাও সংযোগ সড়ক, বাজার, মোড় কিংবা পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করেছে। এটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
প্রস্তাবিত আইনে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা, দুর্ঘটনাকবলিত মানুষকে উদ্ধার ও সহায়তাকারীদের আইনি সুরক্ষা, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিমেরিট পয়েন্ট এবং একই অপরাধ বারবার করলে সর্বোচ্চ জরিমানা দ্বিগুণ করার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া সড়ক ও মোড়ের নিরাপদ নকশা, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে সংশোধন, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো, স্পিড ক্যামেরা, সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং দুর্ঘটনার তথ্য সংরক্ষণে সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডেটাবেস গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসার জন্য ‘গোল্ডেন আওয়ারে’ বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিধানও খসড়ায় রাখা হয়েছে।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর করা, দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা, আন্ডারপাস নির্মাণ, মহাসড়কে বাম পাশের লেন উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনার তথ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার কথা জানিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে