ছবি : সংগৃহীতমানুষ ভুল করে, পাপ করে। তবে ইসলামে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার সুযোগ নেই। আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি বান্দাকে ক্ষমা করতে পারেন। আর আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করাকেই বলা হয় ইস্তিগফার। একজন মুমিনের উচিত নিয়মিত ইস্তিগফার করা এবং নিজের ভুল সংশোধনের চেষ্টা করা।
ইস্তিগফার শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে অন্তরের অনুশোচনা ও কাজের পরিবর্তনও জড়িত। ইস্তিগফার ও তওবা আন্তরিক হওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয় মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
১. নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া
ইস্তিগফারের প্রথম ধাপ হলো নিজের গুনাহ ও ভুলত্রুটির জন্য অন্তর থেকে অনুতপ্ত হওয়া। অতীতে যেসব অন্যায় বা পাপকাজ করা হয়েছে, সেগুলোর কথা স্মরণ করে আল্লাহর কাছে লজ্জিত হতে হবে। নিজের ভুল উপলব্ধি করে তা থেকে ফিরে আসার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
২. গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা
আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি যে পাপের জন্য তওবা করা হচ্ছে, তা ছেড়ে দিতে হবে। ভবিষ্যতে সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। শুধু মুখে ক্ষমা চেয়ে একই অন্যায় বারবার করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবে কেউ তওবার পর দুর্বলতার কারণে আবার পাপে জড়িয়ে পড়লে তার উচিত হতাশ না হয়ে পুনরায় আন্তরিকভাবে তওবা করা।
৩. বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া
ইস্তিগফারের সময় আন্তরিকতা ও বিনয় থাকা জরুরি। নিজের গুনাহ স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ অর্থ—আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এ বাক্যটি বারবার পাঠ করা যায়। পাশাপাশি নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের অপেক্ষা না করে যেকোনো সময় ইস্তিগফার করা যায়।
৪. পাপের প্রতি অনুতাপ ও তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা
যে কাজ আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ, তার প্রতি অন্তরে অনুশোচনা থাকা উচিত। শুধু অনুতপ্ত হলেই হবে না, পাপের দিকে নিয়ে যায় এমন অভ্যাস ও পরিবেশ থেকেও দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। ভালো কাজের অভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত নামাজ আদায় করা এবং সৎ মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
৫. মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া
কোনো গুনাহের সঙ্গে অন্য মানুষের অধিকার জড়িত থাকলে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। কারও সম্পদ আত্মসাৎ করলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে, কারও পাওনা থাকলে পরিশোধ করতে হবে এবং কারও প্রতি অন্যায় করলে যথাসম্ভব তার প্রতিকার করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ক্ষমাও চাইতে হবে। অর্থাৎ আল্লাহর হকের পাশাপাশি বান্দার হক আদায়ের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।
নিয়মিত ইস্তিগফার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন
ইস্তিগফার একজন মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। তাই শুধু কোনো বড় ভুলের পর নয়, প্রতিদিনের জীবনেও নিয়মিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। মুখে ইস্তিগফার পাঠ করার পাশাপাশি নিজের কাজ ও আচরণ সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। আন্তরিক অনুশোচনা, গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প এবং মানুষের অধিকার আদায়ের মাধ্যমে তওবাকে অর্থবহ করে তোলা যায়।
আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং ভুল বুঝতে পারলে দেরি না করে তাঁর কাছে ফিরে আসা এবং সৎপথে চলার চেষ্টা করাই একজন মুমিনের করণীয়।
সময়ের আলো/এসএকে