ছবি : সংগৃহীতজীবন চলার পথে বিপদ-আপদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, পরিস্থিতি এমন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, না সামনে এগোনোর পথ খুঁজে পাচ্ছেন, না পেছনে ফেরার পথ। এমন একটি মুহূর্ত এসেছে যেন, দেয়ালে আপনার পিঠ ঠেকে গেছে। চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে হতাশা। তখন আল্লাহর রহমতের কথা চিন্তা করুন। ফিরে আসুন কোরআন-হাদিস ও নবীজি সা.-এর সুন্নতের দিকে। কোরআন-হাদিসে এমন ৩টি দোয়ার কথা এসেছে, যেগুলো পড়লে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। কীভাবে যে আল্লাহ তায়ালা বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন, তা বিপদগ্রস্ত মানুষটির কল্পনারও বাইরে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিপদমুক্তির সেই দোয়াগুলো।
বিপদ-মুসিবতে পড়লে দোয়া ইউনুস বেশি বেশি পড়া। হজরত ইউনুস (আ.) এই দোয়া পড়েছেন তার বিপদের সময়। এই দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। দোয়াটি হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।’ এর অর্থ, ‘আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’
মাছের পেটে অবস্থানকালে আল্লাহ তায়ালার কাছে এই দোয়া করেছিলেন হজরত ইউনুস (আ.)। আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করেন এবং তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন সুরা আম্বিয়ার ৮৭ ও ৮৮ নম্বর আয়াতে। পরের আয়াতে আল্লাহ বলেন, তিনি ইউনুস (আ.)-কে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং এভাবেই মুমিনদের মুক্তি দেন। তাই বিপদের সময় এই দোয়া পাঠের পাশাপাশি আল্লাহ তায়ালার কাছে আন্তরিকভাবে সাহায্য চাওয়া উচিত।
দোয়া ইউনুসের পাশাপাশি আরও দুটি আমল রয়েছে, যেগুলো পড়লে আল্লাহ তায়ালা ভুল-ত্রুটি মাফ করে দেন। বিপদ থেকে মুক্তি দান করেন। সেই দোয়াটি হলো ইস্তেগফার। মানুষের জীবনে নানা সময় নানান বিপদ ও অশান্তি নেমে আসে, তখন এই দোয়াটি (‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ অর্থ, ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’) পড়া।
পবিত্র কোরআনে সুরা নুহের ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, কীভাবে ইস্তেগফারের সঙ্গে আল্লাহর ক্ষমা ও নেয়ামত লাভ অর্জন করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও নিয়মিত ইস্তেগফার করতেন। বুখারি শরিফের একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি দিনে সত্তরেরও বেশি বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। তাই প্রতিদিনের জীবনে ইস্তেগফারকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। তবে ইস্তেগফারকে শুধু মুখের উচ্চারণে সীমাবদ্ধ না রেখে গুনাহ থেকে ফিরে আসার আন্তরিক চেষ্টাও থাকতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ মুমিনের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। পবিত্র কোরআনের সুরা আহজাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ও তার ফেরেশতাদের নবীজির প্রতি দরুদ পাঠের কথা উল্লেখ করে মুমিনদেরও তার প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দরুদ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ পালন করা হয় এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ পায়। মুসলিম শরিফের এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি নবীজির প্রতি একবার দরুদ পড়বে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করবেন।
তাই দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির সময় বেশি বেশি দরুদ পড়া, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তার ওপর ভরসা রাখা। তবে দরুদ পড়লে জীবনের সব সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে দূর হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া ঠিক নয়। বরং মুমিন আল্লাহর রহমতের আশা রাখেন এবং ধৈর্য, দোয়া ও বৈধ উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এটাই শিক্ষা।
দোয়া ইউনুস, ইস্তেগফার ও দরুদ শরিফ—এই তিনটি আমল আমাদের প্রতিদিনের জীবনে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়মিত পড়া জরুরী। বিপদের সময় যেমন এগুলো পড়া প্রয়োজন, তেমনি স্বাভাবিক সময়েও আল্লাহর স্মরণে নিজেকে অভ্যস্ত করা জরুরি। কারণ প্রকৃত প্রশান্তি আসে আল্লাহর স্মরণ, তার প্রতি ভরসা এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমে।
সময়ের আলো/এসএকে