প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
গ্রাফিক সময়ের আলোএকজন মানুষের প্রধানতম পরিচয় তার নামের ভেতর। তাই ইসলামে নামের ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হাশরের ময়দানে পৃথিবীর সব মানুষ ও মাখলুকের সামনে মানুষের নাম ধরে ডাকা হবে। হাদিসে এসেছে— হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে (অর্থাৎ এভাবে ডাকা হবে— অমুকের ছেলে অমুক)। তাই তোমরা নিজেদের জন্য সুন্দর নাম রাখো।’ (আবু দাউদ : ৪৯৪৮)
সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে সুন্দর নাম রাখা পিতা-মাতার সর্বপ্রথম দায়িত্ব। হাদিসে এটিকে সন্তানের হক বলা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘সন্তানের সুন্দর নাম রাখা ও তার উত্তম তারবিয়াতের ব্যবস্থা করা বাবার ওপর সন্তানের হক ও অধিকার।’ (মুসনাদে বাজ্জার : ৮৫৪০)
মানুষের মনমানসিকতা ও স্বভাবের ওপরও নামের প্রভাব পড়ে। নাম সুন্দর হলে মানুষের ব্যক্তিচরিত্রও সুন্দর হয়। নাম খারাপ হলে এই খারাপের প্রভাব তার জীবনাচারেও পড়ে। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল হুমাইদ বিন শায়বা বলেন, ‘আমি হজরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়েব (রহ.)-এর কাছে বসা ছিলাম। তিনি তখন বললেন, আমার দাদা ‘হাযান’ একবার নবীজির দরবারে উপস্থিত হলেন। নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কী? দাদা বললেন, আমার নাম হাযান। (হাযান অর্থ শক্তভূমি) নবীজি (সা.) বললেন, না, তুমি হচ্ছ ‘সাহল’ (অর্থাৎ তোমার নাম হাযানের পরিবর্তে সাহল রাখো; সাহল অর্থ, নরম জমিন।) দাদা বললেন, আমার বাবা আমার যে নাম রেখেছেন আমি তা পরিবর্তন করব না। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়েব (রহ.) বলেন, এর ফল এই হলো যে— এরপর থেকে আমাদের বংশের লোকদের মেযাজে রুঢ়তা ও কর্কশভাব রয়ে গেল।’ (বুখারি : ৬১৯৩)
কারও নাম অসুন্দর হলে রাসুল (সা.) তা পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) মন্দ ও অসুন্দর নাম পরিবর্তন করে দিতেন (তিরমিজি : ২৮৩৯)। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর স্ত্রী জুওয়াইরিয়া (রা.)-এর নাম ছিল বাররা। নবীজি (সা.) তাঁর নাম পরিবর্তন করে জুওয়াইরিয়া রাখেন। (জুওয়াইরিয়া অর্থ ছোট্ট বালিকা)। কেউ যদি বলত— ‘বাররা এর কাছ থেকে বের হয়েছে’ তা হলে রাসুল (সা.) অপছন্দ করতেন’ (মুসলিম : ২১৪০)। কারণ আরবি বাক্যরীতি অনুযায়ী কেউ যদি বলে ‘আমি বাররা (ভালো)-এর কাছ থেকে এ বের হয়ে এসেছি’ তা হলে বাক্যটি কল্যাণের বিপরীত হয়ে যায়। এমন নাম রাখা উচিত নয়, যার কারণে এমন নেতিবাচক বাক্য ব্যবহার করতে হয়।
নাম ও পরিচয় একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। এ নামের মাধ্যমেই দুজন মানুষের মাঝে সম্পর্ক ও বন্ধন গড়ে ওঠে। হাদিসে এসেছে, হজরত ইয়াজিদ ইবনে নায়ামা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তুলতে চায় তা হলে সে যেন তার নাম, তার বাবার নাম ও বংশের কথা জিজ্ঞেস করে। এর দ্বারা ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর হয়।’ (তিরমিজি : ২৩৯২)
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা