ইনসাফভিত্তিক সমাজের রূপরেখা

মুফতি নাজমুল ইসলাম ফারুক

ইসলাম

ইসলাম কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক অনুশীলন নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, চরিত্র, পরিবার, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা ও সামষ্টিক জীবনে আল্লাহর নির্দেশনার বাস্তব

2026-10-23T19:34:48+00:00
2026-10-23T19:34:48+00:00
 
  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬,
৭ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ইসলাম
ইনসাফভিত্তিক সমাজের রূপরেখা
মুফতি নাজমুল ইসলাম ফারুক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম 
গ্রাফিক সময়ের আলো
ইসলাম কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক অনুশীলন নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, চরিত্র, পরিবার, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা ও সামষ্টিক জীবনে আল্লাহর নির্দেশনার বাস্তব প্রতিফলন। যে সমাজে ইবাদতের পরিচয় আছে, অথচ দুর্বলের অধিকার পদদলিত হয়; যে রাষ্ট্রে ধর্মীয় বক্তব্য উচ্চারিত হয়, অথচ বিচারকের আসনে পক্ষপাত বসে থাকে; যে পরিবারে ধর্মের আলোচনা চলে, অথচ উত্তরাধিকার ও সম্পদের বণ্টনে নারীর প্রাপ্য অস্বীকার করা হয়— সেখানে দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ সামাজিক তাৎপর্য এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। পবিত্র কুরআনের সুরা আন-নিসা এ ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। এ সুরায় আল্লাহ তায়ালা মানুষের মৌলিক মর্যাদা, এতিমের অধিকার, নারীর সম্মান, উত্তরাধিকার, পারিবারিক দায়িত্ব, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, আনুগত্য ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সুরাটি আমাদের বোঝায়, দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রকৃত পরীক্ষা শুধু মসজিদের মিম্বার কিংবা ধর্মীয় সমাবেশে নয়; বরং মানুষের অধিকার রক্ষায়, ক্ষমতার ব্যবহারে, সম্পদের বণ্টনে এবং দুর্বল মানুষের প্রতি আচরণে। দ্বীন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা তাই এমন এক সমাজব্যবস্থার আহ্বান, যেখানে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধে রূপান্তরিত হয়, ঈমান ন্যায়বিচারের শক্তিতে পরিণত হয় এবং ধর্মীয় চেতনা মানবিক মর্যাদা সংরক্ষণের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

মানবজাতির অভিন্ন উৎস ও মর্যাদা
কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানবজাতিকে তাদের প্রতিপালককে ভয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘মানুষকে এক প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেখান থেকে তার সঙ্গী সৃষ্টি করে উভয়ের মাধ্যমে বহু নারী-পুরুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন’ (সুরা আন-নিসা : ১)। এই আয়াত মানবজাতির অভিন্ন উৎসের কথা ঘোষণা করে। বংশ, গোত্র, ভাষা, সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে কেউ জন্মগতভাবে অন্যের ওপর অহংকার করার অধিকার পায় না। মানুষের মর্যাদা রক্ষার প্রথম ভিত্তি হলো এই উপলব্ধি, সব মানুষ একই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি এবং প্রত্যেকের অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। দ্বীন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যে ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয়ের কথা বলে, অথচ মানুষের সঙ্গে অবিচার করে; যে ব্যক্তি নিজের বংশ, পদ কিংবা সম্পদের কারণে অন্যকে তুচ্ছ করে— সে সুরাটির প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে নিজের আচরণের অসংগতি তৈরি করে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই শিক্ষা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিসরে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। দরিদ্রের প্রতি অবজ্ঞা, পেশার কারণে মানুষকে ছোট করা, বংশীয় অহংকার, নারীকে হেয় করা কিংবা সামাজিক দুর্বলতাকে বিদ্রুপের বিষয় বানানো— এসব প্রবণতার পরিবর্তন ছাড়া ন্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণ সম্ভব নয়। অতএব দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রথম সামাজিক পদক্ষেপ হলো মানুষের মর্যাদাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সৃষ্টিকর্তার সামনে জবাবদিহির চেতনা নিয়ে মানুষের অধিকার রক্ষা করা।

এতিমের অধিকার ও দুর্বলের সম্পদ রক্ষা
কুরআনে এতিমদের অধিকার সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘এতিমদের সম্পদ তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে; ভালো সম্পদের পরিবর্তে খারাপ সম্পদ দেওয়া যাবে না এবং তাদের সম্পদ নিজেদের সম্পদের সঙ্গে অন্যায়ভাবে মিশিয়ে খাওয়া যাবে না’ (সুরা আন-নিসা : ২)। এতিম এমন এক মানুষ, যার জীবনে পিতৃস্নেহ ও নিরাপত্তার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তার দুর্বলতাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা শুধু নৈতিক অপরাধ নয়; এটি আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ। এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, তার উত্তরাধিকার আটকে রাখা কিংবা অভিভাবকত্বের সুযোগ নিয়ে তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করা— এসব আচরণ দ্বীন প্রতিষ্ঠার দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। এই নির্দেশনার ব্যাপ্তি শুধু এতিমখানা পরিচালনা কিংবা দান-সদকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতিমের সম্পদ পরিচালনায় স্বচ্ছ হিসাব, দায়িত্বশীল অভিভাবকত্ব, উপযুক্ত তত্ত্বাবধান এবং প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া— সবই এ শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে এতিম ও অভিভাবকহীন শিশুর কল্যাণে ব্যক্তি, পরিবার, মাদরাসা, এতিমখানা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু মানবিক আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা। অনুদানের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, এতিমের সম্পদ কীভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে এবং তার শিক্ষা-স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

নারীর অধিকার ও পারিবারিক ন্যায়বিচার
সুরা আন-নিসা নারীর অধিকার ও মর্যাদার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদে পুরুষের অংশ রয়েছে এবং নারীরও অংশ রয়েছে, সম্পদ কম হোক কিংবা বেশি’ (সুরা আন-নিসা : ৭)। এই ঘোষণা এমন একটি মৌলিক নীতি প্রতিষ্ঠা করে, যা পারিবারিক প্রথা, সামাজিক চাপ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধেŸ। উত্তরাধিকার কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি আল্লাহর নির্ধারিত অধিকার। তাই কন্যাসন্তানকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা, বোনের সম্পদ কৌশলে আত্মসাৎ করা কিংবা বিয়ের পর নারীকে পৈতৃক সম্পদের অধিকার থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা— এসব আচরণ ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। সুরাটিতে বিবাহ, মোহর, দাম্পত্য সম্পর্ক ও নারীর সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশনাও রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা তাদের সঙ্গে সৎভাবে জীবনযাপন করো’ (সুরা আন-নিসা : ১৯)। এ নির্দেশনা দাম্পত্য সম্পর্ককে কেবল সামাজিক চুক্তি হিসেবে নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ হতে পারে; কিন্তু মতবিরোধের অজুহাতে অপমান, জুলুম, অধিকার হরণ কিংবা অন্যায় আচরণকে বৈধতা দেওয়া যায় না। ইসলামি সমাজের মর্যাদা শুধু তার ধর্মীয় পরিচয়ে নয়; বরং সেই সমাজে নারী কতটা নিরাপদ, সম্মানিত এবং অধিকারপ্রাপ্ত— তার মধ্যেও প্রকাশ পায়।

দায়িত্ব, আমানত ও নৈতিক প্রশিক্ষণের কেন্দ্র পরিবার
পরিবার সমাজের প্রথম শিক্ষালয়। মানুষের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, ভাষা, আচরণ ও দায়িত্ববোধের অনেক কিছুই পরিবারে গড়ে ওঠে। সুরা আন-নিসা পরিবারকে অধিকার, দায়িত্ব ও ন্যায়ের ভিত্তিতে পরিচালনার নির্দেশনা দেয়। আল্লাহ তায়ালা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সদাচরণ ও দায়িত্বশীলতার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এতিম, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের প্রতি সদ্ব্যবহারের কথা বলেছেন (সুরা আন-নিসা : ৩৬)। এ আয়াতের শিক্ষা পরিবারকে নিছক ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং পরিবার থেকে প্রতিবেশী ও বৃহত্তর সমাজ পর্যন্ত দায়িত্বের পরিধি বিস্তৃত করে। একজনের ধর্মীয় চরিত্রের মূল্যায়ন শুধু তার ব্যক্তিগত ইবাদত দিয়ে সম্পূর্ণ হয় না; পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষ তার কাছ থেকে কেমন আচরণ পাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের শিক্ষা, বৃদ্ধ পিতা-মাতার সেবা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ এবং পারিবারিক সম্পদে স্বচ্ছতা— এসবই দ্বীন প্রতিষ্ঠার সামাজিক অনুশীলন। বর্তমান সময়ে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, দাম্পত্য কলহ, বৃদ্ধ পিতা-মাতার অবহেলা এবং উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধের মতো সমস্যার সমাধানে সুরা আন-নিসার নির্দেশনা নতুন করে উপলব্ধি করা জরুরি। ধর্মীয় শিক্ষা যদি পরিবারে ন্যায়, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে না পারে, তা হলে সেই শিক্ষার সামাজিক ফলাফল পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বিচার ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশনা
সুরা আন-নিসার ৫৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারদের আল্লাহর আনুগত্য, রাসুলের আনুগত্য এবং তাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিদের আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে তা আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশনার দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ আয়াতের শিক্ষা হলো— ব্যক্তিগত ইচ্ছা, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা সামাজিক প্রচলনকে চূড়ান্ত সত্যের মানদণ্ড বানানো যাবে না। মতবিরোধের ক্ষেত্রে প্রমাণ, নীতি ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সমাধান খুঁজতে হবে। কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিদের আনুগত্য ইসলামে নৈতিক ও শরিয়তসম্মত সীমার মধ্যে বিবেচ্য। কোনো মানুষের নির্দেশ অন্যায় বা আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে নিয়ে গেলে সেই নির্দেশকে নিঃশর্তভাবে অনুসরণ করা যায় না। আনুগত্যের নামে জুলুমকে বৈধতা দেওয়া কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তিকে জবাবদিহির ঊর্ধেŸ তুলে ধরা এ শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়। বর্তমান সমাজে পারিবারিক বিরোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, ন্যায়সংগত পদ্ধতি এবং গ্রহণযোগ্য কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় মতপার্থক্যেও জ্ঞান, শালীনতা ও দলিলের ভিত্তিতে আলোচনা হওয়া উচিত। দ্বীন প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো বিরোধকে সংঘাতে রূপান্তরিত না করে ন্যায়সংগত সমাধানের পথে পরিচালিত করা।

কুরআনের এসব আহ্বান কেবল ধর্মীয় বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়, মর্যাদা, আমানতদারি ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার। যে সমাজে দুর্বলের অধিকার নিরাপদ, নারীর মর্যাদা স্বীকৃত, এতিমের সম্পদ সংরক্ষিত, নেতৃত্ব আমানতদার এবং বিচার নিরপেক্ষ— সেই সমাজেই দ্বীন প্রতিষ্ঠার কুরআনিক আদর্শ জীবন্ত হয়ে ওঠে।

শিক্ষক, আল ফালাহ দাখিল মাদরাসা
সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   ইসলাম  বিশ্বাস  চরিত্র  পরিবার  অর্থনীতি  বিচারব্যবস্থা  সামষ্টিক জীবন  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: