গজারিয়া থানা। ছবি : সংগৃহীতমুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন, স্থানীয় বাবুল হোসেনের ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ আকলিমা আক্তার (২৩), বড় ভাবি ফরিদা বেগম (৪২), ছোট ভাই মিজানুর রহমান (৩৮), ছেলে মো. জাহিদ মোল্লা (১৮) এবং গ্রামবাসী আলমগীর (৪০),শাহ আলম (৪০), সুরজ মিয়া (৫০)।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাবুল হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভিটিকান্দি নয়াকান্দি এলাকার বাবুল হোসেন ও তার পরিবারের সাথে ইউপি সদস্য ইলিয়াস প্রধানের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে শুক্রবার বিকেলে এলাকার একটি সালিশ বৈঠকের পর ইলিয়াস মেম্বার, রিফাত, জিয়ন, লিমন প্রধান, আশরাফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, মহসিন, ফারদিন, তানভীর ও আমির হোসেনসহ একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ, রামদা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাবুল হোসেনের বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে।
এ সময়, হামলাকারীরা বসতঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং প্রায় এক লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ সময় বাড়ির সদস্যরা বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ বাবুল মিয়ার পরিবারের ৪ সদস্য আহত হন। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে ৩ গ্রামবাসীও আহত হন। হামলাকারীরা চলে গেলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় বলেও জানা গেছে।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খন্দকার আরশাদ কবির বলেন, এ ঘটনায় আহত ৭ জন রোগী আমাদের হাসপাতালে এসেছে। আহত সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী বাবুল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমাদের গ্রামে মারামারি হয়। ঘটনাটি ছোট হওয়ায় আমরা তা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী আজকে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে ইউপি সদস্য ইলিয়াস প্রধানের নেতৃত্বে তার ছেলেসহ একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় আহত অন্তঃসত্ত্বা আকলিমা আক্তার বলেন, হামলাকারীরা আমার পেটে ও মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ভবেরচর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অভিযুক্ত ইলিয়াস প্রধান বলেন, সালিশ বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন তারাই এ বিষয়ে সত্য বলতে পারবেন। স্থানীয় একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। আপনারা সত্যতা যাচাই করে দেখতে পারেন। এ বিষয়ে আমিও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে আমরা খবর পেয়েছি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।
সময়ের আলো/আতা