ব্যাটারি পোড়ানো কারখানা। ছবি : সময়ের আলোপুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা উৎপাদনের অভিযোগে পরিবেশ অধিদফতরের কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল সাত কার্যদিবস। কিন্তু এক মাস ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এখনও চালু রয়েছে কারখানাটির কার্যক্রম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, নোটিস দেওয়ার পরও কেন বন্ধ করা যায়নি পরিবেশ দূষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এই কারখানা? আর কর্তৃপক্ষই-বা এ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সীমানাঘেঁষা শিবপাসা ইউনিয়নের পশ্চিমবাগ এলাকা-সংলগ্ন শিবপাসা বানিয়াচং সড়কের পাশে এক স্থানে এ কারখানার অবস্থান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি পুকুরের চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা স্থানে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদফতরের হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে দেওয়া ওই নোটিসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মো. মুখলিছ মিয়াকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নোটিসের পরও কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। ফলে শুধু নোটিস দিয়েই কি দায়িত্ব শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নাকি পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এ প্রশ্ন সামনে এসেছে।
পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পুরোনো ব্যাটারি পোড়ানো হলে সীসাসহ ক্ষতিকর উপাদান বাতাস, মাটি ও পানিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দূষণের মাত্রা নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এর আগে প্রকাশিত সংবাদে আজমিরীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, আজমিরীগঞ্জ থানার তদন্ত অনুযায়ী ঘটনাস্থলটি বানিয়াচং থানার আওতাধীন। বিষয়টি বানিয়াচংয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
বানিয়াচংয়ের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহরাব হোসাইন জানিয়েছিলেন, বিষয়টি বানিয়াচং থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ নাজমুল হক বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে একদিন অভিযান চালানো হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইউসুফ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অপর প্রান্ত থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শ্রী হরিপদ দাস বলেন, এ বিষয়ে নথি না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, এ বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেখি উনি কী করেন।
সময়ের আলো/আতা