প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ এএম
পশ্চিম তীরে চলছে সর্বাত্মক অবরোধ। ছবি : সংগৃহীত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচন সামনে রেখে অধিকৃত পশ্চিম তীরে সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে প্রায় এক হাজার সামরিক চেকপোস্ট বন্ধ হয়ে রামাল্লা শহরে যাতায়াতের সব পথ আটকে যেতে পারে।
হেবরনে একটি সামরিক চৌকিতে গুলির ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে শহরটির তিনতলা একটি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে মালামাল সরিয়ে বাড়ি ছাড়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় তাদের কয়েকজন স্বজনকে আটক করা হয়।
ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, হেবরনে ‘জেনিন মডেল’ প্রয়োগ করা হবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জেনিনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনাকে বোঝাতে এ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হেবরনের হামলার জবাবে এসব পদক্ষেপকে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুক্রবার হেবরনের কাছে গুলির ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রধান এয়াল জামির বলেন, হামলায় জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান হবে ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পরিচালিত অন্য যেকোনো অভিযানের চেয়ে ভিন্ন।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পশ্চিম তীরের সড়কে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের চলাচলের স্বাধীনতার চেয়ে ইসরায়েলিদের জীবন ‘দশ লাখ গুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ’।
ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, হেবরনের হামলার পর তাদের ওপর সম্মিলিত শাস্তির মাত্রা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারত্বে এ ধরনের শাস্তি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা।
সময়ের আলো/জেডি