শনিবার ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল বড় মাঠে জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি : সময়ের আলোনির্বাচনে কোনো প্রকার অনিয়ম বা জালিয়াতির চেষ্টা করা হলে কঠোর প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে জেলা স্কুল বড় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে যদি তালবাহানা করা হয়, তবে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে দিন-রাত সেখানে বসে থাকবেন। কোনো ভোটকেন্দ্রে যদি প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার সিল মারতে সাহায্য করে, কিংবা ভোট গণনায় দুর্নীতি দেখা যায়—তবে প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করে বসে থাকবেন।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রিসাইডিং অফিসার একটাকেও বের হতে দেবেন না। দড়ি দিয়ে খুঁটিতে বেঁধে রেখে আমাদেরকে ফোন করবেন। একটা প্রিসাইডিং অফিসারও যেন পালিয়ে যেতে না পারে। আমরা ভোট কাটব না, ভোট ডাকাতি করব না, আমরা জালিয়াতি করব না; কিন্তু কাউকে জালিয়াতি করতে দেব না।
তিনি আরও জানান, জনগণ যাতে নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে ভোট প্রদান করতে পারে, সে দাবি নিয়ে পরদিন নির্বাচন কমিশনারের কাছে পরিষ্কার বক্তব্য পেশ করতে যাবেন।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি এই সাত-আট মাসে লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি করেছে। আট মাস না যেতেই চারজন মন্ত্রী-এমপি পদত্যাগ করেছেন। সকালে এক কথা, বিকালে এক কথা—তাদের মাথা ঠিক নাই।
মানুষের শরীরে ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি জ্বর উঠলে কথাবার্তার তালগোল যেমন ঠিক থাকে না, তাদের অবস্থাও এখন তেমনই দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যরা পিস্তল নিয়ে নামছেন, মাদক ধরা পড়ছে এবং সরকারের একজন বড় মন্ত্রীর বাড়ির পাশ দিয়ে সব মাদক আসছে। এছাড়া ৩০–৪০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের কাজ এক মন্ত্রীর ছেলে ও ভাগ্নেকে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লুটপাটের হাট বসিয়েছে বিএনপি এখন।
উত্তরবঙ্গের সারের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারের ডিলার নিয়োগ করতে গিয়ে বিএনপির দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এক পরিবারের ভাই, বন্ধু, চাচা, ভাতিজা, শালাকে ডিলার বানানো হয়েছে। একেকটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা করে ঘুস নেওয়া হয়েছে। আমরা ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এর প্রমাণ দিয়েছি, কিন্তু বিএনপি কোনো জবাব দিতে পারেনি।
একই দিন বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের লা-রোজ রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন গোলাম পরওয়ার। সেখানে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে ভোট চান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ তোলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ২টার আগেই মাইকে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে, রঙিন পোস্টার ও ধানের শীষের রঙিন প্রতীক ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মেডিকেল ক্যাম্পের নামে রোগী সেবার আড়ালে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির খেলাফ।
স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার, ইউএনও ও জেলা প্রশাসক অজানা কোনো আতঙ্কে বা ভয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
লিখিতভাবে এই অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশনে জানানো হবে এবং সুরাহা না হলে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারের ব্যাখ্যার জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, পুলিশ প্রশাসন সর্বদা শাসক দলের অনুগত থাকে। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ালেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। সে কারণেই তারা অপেক্ষাকৃত দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা রাখতে চান।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীরের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম।
এছাড়াও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। জনসভায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম এবং ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আতা