মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সংঘাত আসন্ন

তৌহিদুজ্জামান সোহান

আন্তর্জাতিক

মার্কিন কূটনীতিকরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দূতাবাস থেকে লোকজন সরিয়ে নিচ্ছেন। ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ইরান সীমান্তে অভিযান চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আরব ও মার্কিন

2026-10-25T01:25:29+00:00
2026-10-25T01:25:29+00:00
 
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সংঘাত আসন্ন
তৌহিদুজ্জামান সোহান
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন কূটনীতিকরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দূতাবাস থেকে লোকজন সরিয়ে নিচ্ছেন। ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ইরান সীমান্তে অভিযান চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আরব ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মনে এমন ধারণাই প্রবল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আবার ইরানে হামলা শুরু করবে কি না, সেটি এখন আর প্রশ্ন নয়। এখন প্রশ্ন হলো, হামলাটি কখন শুরু হবে। 

ওদিকে ইরানও হুমকি দিয়েছে, পাল্টা হামলায় তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো, পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। সব মিলিয়ে যুদ্ধের দ্বিতীয় দফা শুরুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলের শাসনামলে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যারন ডেভিড মিলার মিডল ইস্ট আইকে বলেন, সংঘাতের বিস্তার ঘটতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হোক কিংবা পরে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই সংঘাত বিস্তারের উদ্দেশ্য কী।

গত এপ্রিল মাসে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি লড়াই অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। তবে সমঝোতার পথ এগিয়ে নিতে জুনে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আদতে বাস্তবায়িত হয়নি। চুক্তিটিকে ব্যাপকভাবে ইরানের জন্য বড় ধরনের ছাড় হিসেবে দেখা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে এসব ছাড় মেনে নেওয়া কার্যত অসম্ভব। মিলার বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে, যার ব্যবধান আকাশ-পাতাল। এই ব্যবধান ঘোচানো সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি কিংবা হুথিদের বিষয়ে ইরান তাদের অবস্থান কখনোই ট্রাম্পের সুবিধামতো বদলাবে না।

বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা আবার যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন। মার্কিন সময় বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট বলেন, শেষ পর্যন্ত ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ট্রাম্পের জাতিসংঘ বিষয়ক রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে হোয়াইট হাউস। শুক্রবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন নৌবাহিনী সুদূর ভবিষ্যতেও এই অবরোধ (ইরানের বন্দরগুলোর ওপর) বজায় রাখতে পারবে।

মিডল ইস্ট আই বলছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার লক্ষ্যে হামলা চালানোর দাবি নিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা ক্রমেই মধ্যপ্রাচ্যে কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে সেই প্রশ্নে সর্বাত্মক লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে চায় ইরান। এই জলপথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলাও চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করছে। অন্যদিকে ইরান ওই জলপথে জাহাজে হামলা চালাচ্ছে, ফলে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে। শুধু চলতি মাসেই অন্তত ২৭টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মার্চের পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

দুই দেশের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ইয়েমেনেও। সেখানে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে। ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরব সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবার যুদ্ধ শুরু অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন কিংবা তেহরান কারও স্বার্থই রক্ষা করছে না। কিন্তু কোনো পক্ষই নিজেদের এতটা দুর্বল মনে করছে না যে তারা ছাড় দিতে রাজি হবে।

যুক্তরাষ্ট্র দেখছে তেলের সরবরাহ, ইরান দেখছে দাম : ভূরাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের জ্বালানি ও ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি ব্রু মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ইরান ও ট্রাম্প উভয়েই তেলের বাজারের দিকে নজর রাখছেন, তবে সেখান থেকে তারা ভিন্ন শিক্ষা নিচ্ছেন। এ সপ্তাহে জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার এমন উপাত্ত প্রকাশ করেছে, যাতে দেখা যায়, গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের রফতানি ইরান যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরে গেছে। তবে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, সাময়িকভাবে রফতানি বেড়ে যাওয়ার কারণে উপাত্তে প্রকৃত পরিস্থিতির পুরো প্রতিফলন নাও থাকতে পারে।

তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো থেকে এ অঞ্চল দিয়ে আরও বেশি তেল রফতানি হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের তেল রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হুথিদের নিয়ন্ত্রিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রফতানি করছে সৌদি আরব। এ জন্য তারা একটি পাইপলাইন ব্যবহার করছে, যা ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। 


অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থিত উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পদ্ধতি নিয়েছে। এসব দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ তেল নিয়ে ওমান উপসাগরে অপেক্ষমাণ বড় ট্যাঙ্কারগুলোর কাছে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের নৌবাহিনী এসব জাহাজকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। তবে এ ব্যবস্থার ব্যয় অনেক বেশি। তেলের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশের মতো। ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। ইরানের অর্থনীতি যে চাপে রয়েছে, তা নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ শতাংশে। 

তবে গ্রেগরি ব্রুর মতে, ইরানের শাসকরা মনে করছেন তারা আরও এক দফা যুদ্ধের ধকল সহ্য করতে পারবেন, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত পিছু হটবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহের পরিমাণের দিকে নজর রাখে, তা হলে ইরান নজর রাখছে দামের দিকে। ইরানের নেতারা বেশ আত্মবিশ্বাসী যে, ট্রাম্পের তুলনায় তারা দীর্ঘ সময় ধরে চাপ সহ্য করতে পারবেন। 

ব্রু আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি আবার সরাসরি ইরানে বোমা হামলা শুরু করে, তা হলে জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানকে আগ্রাসী হামলা চালাতে দেখা যাবে বলে আমরা নিশ্চিত। একই সময়ে, জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়ার এই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সম্পদ ও সক্ষমতা কমে আসবে। সবমিলিয়ে জ্বালানির দাম উচ্চপর্যায়েই থাকবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপর্যয় : ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর আগে কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ সেই হামলা ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হামলায় অংশ নেয়। তবে পরে রিয়াদ মধ্যস্থতার উদ্যোগে সমর্থন জানায়। 

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নিজেদের ওপর ইরানের হামলা বন্ধ করতে ইউএই তেহরানকে অর্থ দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের দ্বিতীয় দফায় উপসাগরীয় দেশগুলো কৌশলগতভাবে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে হিমশিম খাবে। অথচ ইরানের পাল্টা হামলার সম্মুখসারিতে থাকবে তারাই। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান এসব দেশের ওপর হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।

ওমানের শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ বাবুদ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে এটি হবে বিপর্যয়কর। এরই মধ্যে আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট দেখতে পাচ্ছি। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধসে পড়তে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সামাল দিতে বাহরাইনকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কাতারের অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে, ইউএইর অর্থনীতি ৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। অন্যদিকে হুথিদের হামলার কারণে সৌদিতে হতে চলা গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলনও বাতিল করতে হয়েছে।

বাবুদ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক সংকটের জিম্মি হয়ে পড়েছে, যার কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না। কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প ওমানকে একপাশে সরিয়ে দিয়েছেন। ইউএই, কুয়েত ও সৌদি আরব একেবারেই নীরব। তারা বুঝতেই পারছে না কী করবে। তারা ট্রাম্পের অবস্থানও বুঝতে পারছে না।

কার্নেগি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষণা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জর্ডানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারওয়ান মুয়াশের মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ইসরাইল ছাড়া আর কোনো দেশেরই এই যুদ্ধ গুরুতরভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রকৃত স্বার্থ নেই। আগামী সপ্তাহে ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেই আবার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প নতুন করে হামলার সম্ভাবনা আরও জোরালো করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান দ্রুত নিজেদের আচরণ না বদলালে দেশটির বিরুদ্ধে অভিযান ‘শেষ করতে’ তিনি সহায়তা চান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইলে এই যুদ্ধের জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনায় নিলে নতুন করে লড়াই শুরু হলে নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। এমনকি নির্বাচনের ফল অনির্ধারিত থাকলে প্রধানমন্ত্রীর পদে টিকে থাকার ক্ষেত্রেও এটি তার জন্য সহায়ক হতে পারে। বাবুদ বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানের অবকাঠামো ‘ধ্বংস করে দিতে’ সক্ষম, তা নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। তবে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ করতে পারে।

এ সপ্তাহে ড্রপসাইট নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার যুদ্ধ শুরু করলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাবে ইরান। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হয় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা এবং হরমুজ প্রণালি থেকে সৃষ্ট চাপ সামাল দিতে ও ইরানের ওপর অবরোধ বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ব্যবহার করা, তা হলে ওই দেশগুলোর সরকারের এটা ধরে নেওয়া উচিত নয় যে, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধে অংশ নিয়েও তারা নিজেদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পারবে!

ট্রাম্পের জন্য সংকটের মূল্য কোথায় : যুদ্ধের দ্বিতীয় দফায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, ইরানের সম্ভাব্য তীব্রতর হামলা থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের কতটা সুরক্ষিত রাখতে পারবে। এসব হামলা জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত মজুদের ঘাটতি’ রয়েছে। মার্চে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছিল, তখনই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। এরপর ওই অঞ্চলে কয়েক সপ্তাহ ধরে উচ্চমাত্রার যুদ্ধ হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করেছে, তাদের গোলাবারুদের কোনো ঘাটতি নেই।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানি ড্রোন হামলার ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে। হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরব বিপর্যস্ত। এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকে দেশটির বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে ইরানপন্থি ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপর দায়ী করা একটি হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন আক্রান্ত হয়।

মারওয়ান মুয়াশের মিডল ইস্ট আইকে বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়বে। আর এটা স্পষ্ট যে, এর ফলে ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণভাবে চাপে রয়েছেন ট্রাম্প।

তবে বর্তমানে কার্নেগি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের জ্যেষ্ঠ ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মিলারের মতে, ট্রাম্পের ওপর চাপের যে মাত্রা ধারণা করা হয়, বাস্তবে তিনি তার চেয়ে কম বাধার মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে, চলতি বছরের শুরুতে দ্রুত বিজয় অর্জনের পরিকল্পনা ইরান বাধাগ্রস্ত করায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ। মিলার বলেন, এখানে লাভ-ক্ষতির কোনো হিসাব নেই, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিকই ভালো থাকবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি প্রতিনিধি পরিষদ, এমনকি হয়তো সিনেটের নিয়ন্ত্রণও হারাতে পারেন। 

কিন্তু তাতে তার কিছু হবে না। তার পরিবার ভালো থাকবে। তিনি নিজের প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরি নির্মাণ করবেন। তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের তাড়াহুড়োর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাকে জবাবদিহির মুখোমুখিও হতে হচ্ছে না। তা হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সংকটের মূল্যটা আসলে কোথায়!

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   মধ্যপ্রাচ্য  সংঘাত  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: