ছবি : সংগৃহীতআজ ২৫ অক্টোবর ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবারের উত্তরসূরি জাইমা রহমান নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আইনবিষয়ক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পেশাগত পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাইমা রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। তার দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। মাতামহ প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানও দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি আইন, জননীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের মতো বিষয়ে আগ্রহের মধ্য দিয়ে নিজের কর্মপরিসর বিস্তৃত করছেন জাইমা। তার জন্মদিনে শুভানুধ্যায়ীরা পেশাগত জীবনে আরও সাফল্য ও মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা করছেন।
লন্ডনে পড়াশোনা, ব্যারিস্টারি অর্জন
জাইমা রহমানের শৈশব ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তিনি রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকায় পড়াশোনা করেন। ২০০৮ সালে বাবা তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর লন্ডনে তার শিক্ষাজীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু হয়।
যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি) ডিগ্রি অর্জন করেন জাইমা। এরপর দেশটির ঐতিহ্যবাহী আইনি প্রতিষ্ঠান দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে পেশাগত যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি।
বাংলাদেশেও আইনপেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষার প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ হন জাইমা রহমান। তবে এ ধাপের সাফল্যকে পূর্ণাঙ্গ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
আইনপেশায় অভিজ্ঞতা
শিক্ষাজীবন শেষে জাইমা রহমান যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে আইন এবং নীতিবিষয়ক কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে কাজ করেছেন। সেখানে সাংবিধানিক আইন, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং করসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে আবাসন, কল্যাণ ও কর্মসংস্থানবিষয়ক আইন নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ ও জনসংযোগ এবং সমাজকল্যাণ ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তা দেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে দায়িত্ব
জাইমা রহমানের পেশাগত জীবনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তার এই নিয়োগের খবর প্রকাশিত হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের নির্বাহী দপ্তরের অধীনে কাজ করছেন জাইমা। সেখানে আইনবিষয়ক বিষয়াদি তদারকি করা তার দায়িত্বের অংশ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের প্রকাশিত কর্মকর্তা তালিকায় তার নাম ও পদবি উল্লেখ রয়েছে। এই দায়িত্ব আন্তর্জাতিক পরিসরে তার আইনবিষয়ক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন জাইমা রহমান। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ওই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়।
সামাজিক উন্নয়নে আগ্রহ
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন জাইমা রহমান। তিনি বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা সুরভীর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। সুবিধাবঞ্চিত ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে কাজ করে সংস্থাটি।
সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ, শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গসমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয় তার আগ্রহের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একটি পরিবারে জন্ম হলেও জাইমা রহমানের পেশাগত পথচলা মূলত আইন ও নীতিবিষয়ক কাজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন দায়িত্ব এবং সামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
জন্মদিনে তার প্রতি শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা, পেশাগত দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়ে তিনি ভবিষ্যতেও আইন ও সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখবেন। শুভ জন্মদিন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান!
সময়ের আলো/এসএকে