মাহমুদা চৌধুরী, মেজবাউর রহমান সুমন ও ফজলুল হক। ছবি : সংগৃহীতচলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য মাহমুদা চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র পরিচালনায় মেজবাউর রহমান সুমন পাচ্ছেন ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬’। আজ ২৬ অক্টোবর চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও সাংবাদিক ফজলুল হকের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। দুপুর ১২টায় চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
দেশের প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক ছিলেন ফজলুল হক। তিনি ‘প্রেসিডেন্ট’ নামে প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্যও পরিচিত। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার’ প্রবর্তন করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, রন্ধনবিদ কেকা ফেরদৌসী, চলচ্চিত্র প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান, চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান, ছটকু আহমেদসহ অনেকে।
১৯৩০ সালের ২৬ মে জন্মগ্রহণ করেন ফজলুল হক। ১৯৫০ সালে বগুড়া থেকে তিনি দেশের প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’ প্রকাশ করেন। পরে ১৯৫২ সালে ঢাকা থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। ১৯৫৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রকাশনা সংস্থা ইনল্যান্ড প্রেস। ১৯৫৯ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত হয় ‘সিনেমা’র শেষ সংখ্যা।
১৯৬০ সালে ওবায়েদ উল হকের একটি ছোট উপন্যাসের চিত্রনাট্য রচনা করেন ফজলুল হক। পরে ‘আজান’ নামে সেটি চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৬৬ সালে নির্মাণ করেন শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’, যা পুরস্কৃত হয়েছিল। তার চিত্রনাট্য থেকে নির্মিত ‘উত্তরণ’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি।
মহান মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল ফজলুল হকের। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেন এবং যুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কথিকা লিখতেন তিনি। কলকাতার আকাশবাণীতে ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’ নামে একটি নাটক রচনা ও পরিচালনা করেন। সেখানে ‘মণি হক’ নামেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
১৯৭২ সালে বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঘড়ির ডায়ালে বাংলায় সময় লেখার ‘বাংলা ঘড়ি’ চালু করেন তিনি। ১৯৭৬ সাল থেকে কলকাতায় বসবাস শুরু করেন ফজলুল হক। সেখানে ‘চিত্রসারথী’ নামে দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যার একটি লোককাহিনিনির্ভর ‘সাতভাই চম্পা’। ১৯৯০ সালের ২৬ অক্টোবর কলকাতায় তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে সেখানকার গোবরা কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
ফজলুল হকের সহধর্মিণী ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। তাদের চার সন্তান—শিশুসাহিত্যিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর, ফরহাদুর রেজা প্রবাল, রন্ধনবিদ কেকা ফেরদৌসী এবং ফারহানা মাহমুদ কাকলী।
ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারের আগের বিজয়ীরা
২০০৪ সালে সাইদুল আনাম টুটুল ও ফজল শাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে পুরস্কার পেয়েছেন চাষী নজরুল ইসলাম ও আহমদ জামান চৌধুরী (২০০৫), হুমায়ূন আহমেদ ও রফিকুজ্জামান (২০০৬), সুভাষ দত্ত ও হীরেন দে (২০০৭), গোলাম রাব্বানী বিপ্লব ও আবদুর রহমান (২০০৮), আমজাদ হোসেন ও সৈয়দ শামসুল হক (২০০৯), মোরশেদুল ইসলাম ও চিন্ময় মুৎসুদ্দী (২০১০), ই আর খান ও অনুপম হায়াৎ (২০১১), নাসিরউদ্দিন ইউসুফ ও গোলাম সারোয়ার (২০১২), রাজ্জাক ও রেজানুর রহমান (২০১৩)।
এ ছাড়া সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী ও আরেফিন বাদল (২০১৪), মাসুদ পারভেজ ও শহীদুল হক খান (২০১৫), আজিজুর রহমান ও মোস্তফা জব্বার (২০১৬), আবদুল লতিফ বাচ্চু ও নরেশ ভুঁইয়া (২০১৭), মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও শফিউজ্জামান খান লোদী (২০১৮), কোহিনূর আখতার সুচন্দা ও রাফি হোসেন (২০১৯), আলমগীর ও দীপেন (২০২০), কাজী হায়াৎ ও মাজহারুল ইসলাম (২০২১), দেলোয়ার জাহান ঝন্টু ও আবদুল্লাহ জেয়াদ (২০২২), ছটকু আহমেদ ও ইমরুল শাহেদ (২০২৩), গিয়াস উদ্দিন সেলিম ও আলাউদ্দীন মাজিদ (২০২৪) এবং নির্মাতা রায়হান রাফী ও চলচ্চিত্র সাংবাদিক আলিমুজ্জামান (২০২৫) এ পুরস্কার পেয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই