ছবি : সংগৃহীত ইন্দোনেশিয়া সফরের বিতর্ক পেছনে ফেলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। তবে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে জাতীয় দলের অন্দরমহলে শৃঙ্খলা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সফরে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর এবার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু।
গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের আবাসিক ক্যাম্প। ক্যাম্পের প্রথম দিনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইন্দোনেশিয়া সফরের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়ে বাফুফের অবস্থান তুলে ধরেন বাবু।
তিনি জানান, সফর থেকে ফেরার পর জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দলের ম্যানেজার, কো-অর্ডিনেটর ও প্রধান কোচের প্রতিবেদনও পেয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাবুর ভাষ্য, ‘আমরা ইন্দোনেশিয়া থেকে আসার পরে ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির একটি মিটিং করেছি। সেখানে বিষয়গুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও আলোচনা হয়েছে। যে ইস্যুগুলো নিয়ে কথা হচ্ছে, সেগুলো আমাদের প্রেসিডেন্ট নিজ হাতে দমন করবেন।’
শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াও ব্যাখ্যা করেছেন জাতীয় দলের ম্যানেজার। তিনটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণের পর বাফুফে সভাপতি ভাইস প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাবু।
শুধু তদন্ত বা শাস্তির আশ্বাস নয়, দলের প্রতিদিনের কার্যক্রমেও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় দলের ব্যবস্থাপনা ও কোচিং স্টাফ। ক্যাম্প শুরুর আগে কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক, ফিজিও এবং হোটেল-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। সাফের প্রস্তুতির সময় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না— এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছে খেলোয়াড়দের।
বাবু বলেন, ‘আমরা চুল পরিমাণ কাউকে কোনো ছাড় দেব না। জিরো টলারেন্স! আমাদের প্রেসিডেন্ট পরিষ্কার বলেছেন, কেউ কোনো রকমের ইনডিসিপ্লিন করলে, সে যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
ক্যাম্পের প্রথম দিনেই দেশি খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই যোগ দিয়েছেন। তবে হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলীর যোগ দিতে দেরি হওয়ায় টুর্নামেন্টের শুরুর ম্যাচে তাদের পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এই দুই ফুটবলার ৮ বা ৯ নভেম্বরের দিকে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। ফলে ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাদের খেলা কঠিন হতে পারে। তবে ১১ নভেম্বরের ম্যাচের আগে পূর্ণ শক্তির দল পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে