ছবি : সংগৃহীত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং তা পুনরায় না করার সংকল্প করা তওবার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তবে মানুষের অধিকার নষ্ট করা, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা কিংবা অন্যের প্রতি জুলুমের মতো বিষয়ে শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া বা যথাসাধ্য ক্ষতিপূরণ করাও জরুরি। তাই ইস্তিগফারের প্রকৃত অর্থ ও তওবার শর্ত জানা প্রত্যেক মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ইস্তিগফার কী, কীভাবে করতে হয়
আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহ ও পাপের জন্য ক্ষমা চাওয়াকে ইস্তিগফার বলা হয়। আর আন্তরিকভাবে তওবা করার অর্থ হলো নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, গুনাহ ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই পাপে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। ইস্তিগফার যেকোনো ভাষায় করা যায়। মনের গভীর থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেও তিনি তা জানেন। তবে মুখে ইস্তিগফার করা এবং আন্তরিকভাবে তওবা করা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন দোয়া এবং নবীজি (সা.)-এর শেখানো বাক্যের মাধ্যমে ইস্তিগফার করা যায়। এর মধ্যে সহজ ও পরিচিত কয়েকটি হলো—
১. আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ : আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
২. রব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রহিম।
অর্থ : হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
প্রতিদিন বেশি বেশি ইস্তিগফার করা নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। হাদিসে এসেছে, তিনি দিনে ৭০ বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। অন্য বর্ণনায় ১০০ বার ইস্তিগফারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
শুধু মুখে ইস্তিগফার করলেই কি গুনাহ মাফ হয়?
ইস্তিগফার শুধু মুখে কিছু বাক্য উচ্চারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত তাৎপর্য হলো নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, গুনাহ ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই কাজে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। কেউ গুনাহ করার পর মুখে ক্ষমা চাইলেন, কিন্তু তা ছেড়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টা করলেন না—তাহলে তাঁর তওবার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
তবে মানুষ দুর্বলতার কারণে আবারও একই গুনাহে জড়িয়ে পড়লে তার জন্য তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। তাকে আবারও আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়।
অন্যের অধিকার নষ্ট করলে করণীয়
গুনাহের মধ্যে কিছু বিষয় সরাসরি আল্লাহর হকের সঙ্গে সম্পর্কিত, আবার কিছু বিষয় মানুষের অধিকারের সঙ্গে জড়িত। কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা, পাওনা আটকে রাখা, কারও প্রতি জুলুম করা কিংবা অন্যের সম্মানহানি করার মতো কাজের ক্ষেত্রে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, পাওনা পরিশোধ করা বা যথাসম্ভব ক্ষতিপূরণ করা জরুরি। পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়াও প্রয়োজন হতে পারে।
নিয়মিত ইস্তিগফারের গুরুত্ব
নিয়মিত ইস্তিগফার মানুষের আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম উপায়। পবিত্র কোরআনে ইস্তিগফারের সঙ্গে আল্লাহর ক্ষমা, রহমত ও বরকতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সুখে-দুঃখে, ভুলের পর কিংবা দৈনন্দিন জীবনের যেকোনো সময়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তাঁর কাছে ফিরে আসাই মুমিনের কর্তব্য। ইস্তিগফারকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করার পাশাপাশি নিজের আচরণ সংশোধন, অন্যের অধিকার রক্ষা এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। এভাবেই একজন মানুষ আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি লাভের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।
সময়ের আলো/এসএকে