নেই সংযোগ সড়ক, অচল ৩ কোটি টাকার সেতু

ইয়াসিন মনি খান, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

সারাদেশ

নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিন কোটি টাকার সেতু। আছে পাকা অবকাঠামো, কিন্তু নেই দুই পাশে ওঠানামার উপযোগী সংযোগ সড়ক।

2026-10-26T17:03:23+00:00
2026-10-26T17:03:23+00:00
 
  সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
নেই সংযোগ সড়ক, অচল ৩ কোটি টাকার সেতু
ইয়াসিন মনি খান, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৩ পিএম 
নেই সংযোগ সড়ক, অচল ৩ কোটি টাকার সেতু। ছবি : সময়ের আলো
নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিন কোটি টাকার সেতু। আছে পাকা অবকাঠামো, কিন্তু নেই দুই পাশে ওঠানামার উপযোগী সংযোগ সড়ক। ফলে সেতু নির্মাণ হলেও বদলায়নি মানুষের দুর্ভোগ। বাধ্য হয়ে নদী পারাপারে নিজেদের উদ্যোগে কাঠের সাঁকো তৈরি করেছেন এলাকাবাসী। সেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন দুই উপজেলার মানুষ। যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের ঝিঁকরা এলাকায় গুংগুর নদীর ওপর ৩২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল কসবা ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানুষের সড়ক যোগাযোগ সহজ করা। কিন্তু সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় সেটি এখনো স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না। প্রশ্ন উঠেছে, মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুর সুফল কবে মিলবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ওপর সেতুটি দাঁড়িয়ে থাকলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক নিচু থাকায় ওঠানামা করা যাচ্ছে না। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাতায়াতের জন্য সেতুর পাশে নিজেদের উদ্যোগে কাঠের সাঁকো তৈরি করেছেন তারা। সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোই এখন তাদের চলাচলের ভরসা।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের জন্য এই পথে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অসতর্ক হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিল, নতুন সেতু চালু হলে দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে, সহজ হবে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ। কিন্তু সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সেই প্রত্যাশা এখনো অধরা।

সেতুটি নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় নির্মাণকাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পায় মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও মোস্তফা কামাল জেমি এন্টারপ্রাইজ। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে সেতু নির্মাণের পরও সংযোগ সড়ক সম্পন্ন না হওয়ায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্য যদি মানুষের যাতায়াত সহজ করা হয়, তাহলে সংযোগ সড়ক ছাড়া সেটি কতটা কাজে আসছে? প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা কী ছিল, সংযোগ সড়কের কাজ কেন এখনো অসম্পূর্ণ এবং কবে নাগাদ পুরো সেতু চলাচলের উপযোগী হবে, এসব প্রশ্নের জবাব চান স্থানীয় বাসিন্দারা।

কায়েমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন বলেন, এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না দুই উপজেলার মানুষ। সেতু তৈরি হওয়ার পরেও সামান্য একটি কাঠের সেতু দিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন কাজটা শেষ করছেন না, আমাদের বুঝে আসছে না। আমি দ্রুত এই সমস্যা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও আমাদের মুশফিকুর রহমান এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মাজহারুল হক আকন্দ বলেন, কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হচ্ছে। তবে মাটি কাটার ভেকু মেশিন না পাওয়ার কারণ দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের এই কালক্ষেপণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কিন্তু মাটি কাটার যন্ত্র না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে সংযোগ সড়কের কাজ কত দিন আটকে থাকবে, তার কোনো স্পষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন বিলম্বের দায় কে নেবে, আর প্রকল্পটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী করতে কার্যকর ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে, এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, আর আশ্বাস নয়, দ্রুত সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে কাজ শেষ করতে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   নদী  সেতু  সংযোগ সড়ক  মানুষ  দুর্ভোগ  সাঁকো  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: