প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৪ পিএম
চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো চিতাবাঘটিকে ধরতে পারেনি বন বিভাগের কর্মীরা। ছবি : সময়ের আলোলালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা চিতাবাঘটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে বন বিভাগের কর্মীরা বাঘটিকে উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাঘটি উদ্ধার না হওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে বন বিভাগের কর্মীরা এসে চিতাবাঘটিকে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে রোববার বিকেলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে চিতাবাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন।
আহতরা হলেন ওই এলাকার শরীফা বেগম, নজরুল ইসলাম ও আফছার আলী। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে ওই সীমান্তের ৯০৫ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে বেঁধে রাখা ছাগল আনতে গিয়ে শরীফা বেগম দেখতে পান, তার ছাগলটিকে একটি চিতাবাঘ আক্রমণ করেছে। তিনি ছাগলটিকে রক্ষা করতে গেলে বাঘটি তার ওপরও হামলে পড়ে। এ দৃশ্য দেখে ওই এলাকার নজরুল ও আফছার ওই নারীকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপরও আক্রমণ চালিয়ে বাঘটি ধানখেতে লুকিয়ে পড়ে। পরে ধানখেতের চারদিকে হাজারো মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখে। অপরদিকে বাঘ তাড়াতে বিজিবি দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে জানান স্থানীয়রা। সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে বাঘটি বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো চিতাবাঘটিকে ধরতে পারেনি বন বিভাগের কর্মীরা। এর আগে রোববার বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চিতাবাঘটি একটি ধানখেতে আটকিয়ে রাখে স্থানীয়রা। পরে বিজিবি সদস্যরা একটি ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘটিকে শনাক্ত করেন। এরপর বাঘটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। সোমবার সকাল থেকে ঢাকা ও রংপুর থেকে আসা বন বিভাগের কর্মীরা পুরো এলাকাজুড়ে খোঁজাখুঁজি করেও বাঘটির সন্ধান পাননি।
গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনাব্বিরুল হক মনা বলেন, বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। রংপুর ও ঢাকা থেকে বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে এসেছেন বাঘটিকে উদ্ধার করতে।
রংপুর বিভাগীয় সামাজিক বন কর্মকর্তা নূর ইসলাম বলেন, সকাল থেকে ঢাকা ও রংপুরের দুটি টিম বাঘটিকে ধরার জন্য অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি। তবে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। আমরা ধারণা করছি বাঘটি বর্তমানে এই এলাকায় নেই। আমাদের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
সময়ের আলো/আতা