নরসিংদীর বড় বাজারে খোলামেলা ভাবে বিক্রি হচ্ছে ক্ষতিকর নিষিদ্ধ শব্দ বাজি ও বিপজ্জনক আতশবাজি সরকারি কড়া নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী বড় বাজারে সবার চোখের সামনেই দিব্যি খোলামেলাভাবে এসব বাজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারের প্রায় ১০-১২টি দোকানে প্রকাশ্যে টেবিল পেতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে হরেক রকমের বাজি। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে কোনও রকম লুকোছাপা ছাড়াই প্রকাশ্যে চলছে দর কষাকষি এবং দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ পণ্য।
সরেজমিনে নরসিংদী বড় বাজার ফলপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, উৎসবের মৌসুমকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই নিষিদ্ধ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। আইন অনুযায়ী জনস্বার্থে এবং শব্দদূষণ রোধে শব্দ বাজি তৈরি, মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এখানে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইপিএল আতশ, চকলেট বোমা, চেইন বাজি, পটকা, আটাইশ, কিটকেট, চরকী, তারাবাজি, চকলেট বোমা, ঝর্না বাজি, কয়েল বাজি, মরিচ বাজি, মিনি বুলেট বাজি, রকেট, দড়ি চকলেট বাজিসহ বিভিন্ন শব্দ বাজি দোকানের সামনে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ক্রেতারা অবাধে এসব বাজি কিনছেন।
শহরের বাসিন্দা বড় বৃদ্ধ আলী আশরাফ বলেন, আমি হৃদ্রোগে আক্রান্ত একজন মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে কিছুক্ষণ পরপর বাজির বিকট শব্দে বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। হঠাৎ এমন শব্দ হলে বুক ধড়ফড় করে এবং সঙ্গে সঙ্গে বুকে ব্যথা শুরু হয়। বয়স হয়েছে, তার ওপর হৃদ্রোগের সমস্যা এ অবস্থায় এ ধরনের শব্দ আমার জন্য খুবই কষ্টকর। একটু শান্তিতে থাকারও উপায় নেই। উৎসবের আনন্দ করতে গিয়ে এমন শব্দে আমাদের মতো অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমি চাই, সবাই যেন বিষয়টি বিবেচনা করে এবং অসুস্থ মানুষের কষ্টের কথা ভেবে এসব উচ্চ শব্দে বাজি ফোটানো থেকে বিরত থাকে।
আব্দুল আউয়াল নামে বাজারে আসা একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে এত বড় একটা বাজারে সবার চোখের সামনে সারিসারি দোকান পেতে বাজি বিক্রি হচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়। তীব্র আওয়াজের এসব শব্দ বাজি শুধু হৃদরোগী বা শিশুদের জন্যই ক্ষতিকর নয়, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক এর নরসিংদীর সাধারণ সম্পাদক হলধর দাস বলেন, বড় বাজারে হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে এই ধরনের দাহ্য ও বিস্ফোরক জাতীয় বাজি খোলা অবস্থায় বিক্রি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ, প্রয়োজনে সেটা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া একান্ত আবশ্যক । কারণ, লক্ষ্মী পূজাকে কেন্দ্র করে ফটকা বাজির সুবাদে অপরাধী চক্র আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বড় ধরনের কোনও অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারে। এছাড়া, শব্দ দূষণ আইনগত নিষিদ্ধ। বয়স্করা ও অপ্রাপ্ত বয়স্করা শব্দদূষণের মারাত্মক প্রভাবে জীবনহানির শিকার হতে পারে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, বাজি ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন করা জনস্বার্থে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার পরও যদি কেউ বিক্রি করে তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/আতা