প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
প্রবারণা পূর্ণিমা ঘিরে পাহাড়ে উৎসবের ঢেউ। ছবি : সময়ের আলোধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা বা মারমা সম্প্রদায়ের ওয়াগ্যোয়াই পোয়েকে ঘিরে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বিরাজ করছে আনন্দ-উৎসবের আমেজ। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় এ উৎসব উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে চলছে প্রার্থনা, পূজা, দান-দক্ষিণাসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। সন্ধ্যায় মহারথ টানা, রাতে ফানুস উত্তোলন ও হাজার প্রদীপ প্রজ্বালনসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপন করবেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।
প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। আষাঢ়ী পূর্ণিমার পর থেকে টানা তিন মাস বর্ষাবাস শেষে এ পূর্ণিমায় প্রবারণা পালন করেন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ধর্মাবলম্বীরা। এ উপলক্ষে সকাল থেকে বান্দরবানের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে চলছে ধর্মীয় প্রার্থনা। ভিক্ষুদের উদ্দেশে অর্থ ও অন্নদান, ফুল পূজা এবং পঞ্চশীল, অষ্টশীল ও দশশীল গ্রহণসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন দায়ক-দায়িকারা।
প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় বান্দরবান শহরে মহারথ টানা হবে। পরে মধ্যরাতে উজানীপাড়া খেয়াঘাটসংলগ্ন সাঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জন দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন, ফানুস উত্তোলন এবং পাড়ায় পাড়ায় পিঠা তৈরির উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজন ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পাহাড়ি জনপদ।
উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য চনুমং মারমা বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে শত শত উঁচু পাহাড় ফানুসের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে। উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ২৬ অক্টোবর মূল অনুষ্ঠান ও রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বৌদ্ধবিহারে পূজা শেষে দায়ক-দায়িকা ও সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে মঙ্গলযাত্রা বের করা হবে। পরে শহরের বিভিন্ন পাড়া প্রদক্ষিণ করে উজানীপাড়া খেয়াঘাটে সাঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জন দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রবারণা পূর্ণিমার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/আতা