ইরানে হামলার প্রস্তুতি শেষ হলেও কেন এখনও পিছিয়ে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে একটি

2026-10-26T21:09:13+00:00
2026-10-26T21:10:21+00:00
 
  সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলার প্রস্তুতি শেষ হলেও কেন এখনও পিছিয়ে ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৯ পিএম  আপডেট: ২৬.১০.২০২৬ ৯:১০ পিএম
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে একটি বি-১ ল্যান্সার বোমারু বিমানের জন্য গোলাবারুদ প্রস্তুত করছেন মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যরা। ছবি : গালফ নিউজ
ইরানে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। তবে হামলার প্রস্তুতি এগিয়ে রাখলেও এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

সিএনএনের বরাতে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আট মাসের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানগুলোতে মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা, রাডার ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। তবে নতুন পরিকল্পনায় এর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা হবে।   

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিলে আগামী ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার সক্ষমতা রয়েছে মার্কিন বাহিনীর। তবে হামলার সময় নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ ধরনের অভিযান শুরু হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়নি।

কেন এখনো হামলার নির্দেশ দেননি ট্রাম্প?

সামরিক প্রস্তুতি এগিয়ে থাকলেও ইরানে হামলার সময় নির্ধারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে এককভাবে নতুন হামলা শুরু না করার জন্য চাপ দিয়েছে। দুই দেশ সম্ভাব্য যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, ইরান ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে দ্রুত পাল্টা আঘাত হানতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সেনা, সামরিক স্থাপনা ও কূটনৈতিক মিশন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

২৩ অক্টোবরের একটি মার্কিন গোয়েন্দা স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের তৎপরতা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে হামলার কথিত পরিকল্পনাগুলোও অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখনই ইরান বা হুথিরা বড় ধরনের আগাম হামলা চালাবে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন না। তাঁদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে সতর্কতা

ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি এলাকা থেকে কূটনৈতিক উপস্থিতি কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি মার্কিন দূতাবাসকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। অন্য কিছু দূতাবাসে সীমিতসংখ্যক কর্মী নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসই তখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে কর্মী প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পাওয়া একমাত্র মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা ছিল।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য নির্ধারিত অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সামরিক কর্মীদের পাঠানোও স্থগিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলকে হামলা পিছিয়ে দিতে বলেছে ওয়াশিংটন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে অপেক্ষা করতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিবেচনা এবং ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ট্রাম্প নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের হামলার পরিকল্পনায় অনুমোদন দেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে ইরান ও হুথিদের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে নতুন হামলা নিয়ে মতবিরোধের খবর নাকচ করেছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরায়েল হামলা শুরু করতে যাচ্ছে—এমন খবরও তিনি অস্বীকার করেছেন।


হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিরোধে হরমুজ প্রণালিও গুরুত্বপূর্ণ সংকটস্থলে পরিণত হয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে মার্কিন বাহিনী।

রোববার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার হরমুজ প্রণালি পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি ইরানের পুঁতে রাখা মাইন অপসারণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তেলবাহী জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। প্রণালিকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা অসহনীয় পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, জাহাজ চলাচল নিয়ে সংকট ট্রাম্পের পরবর্তী সামরিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

হামলার প্রস্তুতির পাশাপাশি চলছে কূটনৈতিক তৎপরতা

সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হলেও সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার তেহরানে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনা করার কথা রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই এই বৈঠকের উদ্দেশ্য। এ প্রচেষ্টায় কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অন্যদিকে, চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন দুটি বিপরীতমুখী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে সম্ভাব্য বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে নতুন করে ব্যাপক সংঘাত এড়াতে তৎপরতা চালাচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলো। ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।

সূত্র : গালফ নিউজ 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   ইরান  হামলা  ট্রাম্প 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: