প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা আকাশে ওড়ান রঙিন ফানুস। ছবি : সময়ের আলোবৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে অশুভকে বর্জন, আত্মশুদ্ধি ও সত্য-সুন্দরের পথে চলার প্রত্যয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা আকাশে ওড়ান রঙিন ফানুস। রাতের আকাশে ফানুসের আলো উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিহার প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্বালন ও বিশেষ প্রার্থনা শেষে ফানুস ওড়ানো হয়। ফানুস ওড়ানো দেখতে ভিড় করেন অনেকে।
সকালে বুদ্ধপূজা ও পঞ্চশীল প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রবারণা পূর্ণিমার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে সমবেত হন শত শত রাখাইন নারী-পুরুষ। দিনভর চলে বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, সংঘদান এবং পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ।
উৎসব ঘিরে রাখাইন পল্লিগুলো সাজানো হয় নানা রঙে। ঘরে ঘরে তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলি ও নানা ধরনের খাবার। নতুন পোশাক পরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ অংশ নেন ধর্মীয় আয়োজনে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা সমবেত হন বৌদ্ধবিহারগুলোতে। এ সময় বুদ্ধের উদ্দেশে ফুল ও প্রদীপ নিবেদন করেন তাঁরা।
বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জানান, আরাকানিক পঞ্জিকা বা চন্দ্র-সৌর পঞ্জিকা অনুসরণ করে কুয়াকাটার রাখাইন সম্প্রদায় এ দিন প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করছে।
বৌদ্ধধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, আষাঢ়ি পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস পালনের পর উদযাপিত হয় প্রবারণা পূর্ণিমা। গৌতম বুদ্ধের সময় থেকে চলে আসা এ ঐতিহ্যে আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি ও অশুভ চিন্তা-আচরণ পরিহারের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে বৌদ্ধবিহারগুলোতে শুরু হয় মাসব্যাপী কঠিন চীবরদান উৎসব। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় সাধনা, দান ও সম্প্রীতির চর্চায় অংশ নেন।
সময়ের আলো/আতা