প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী নৌকা বাইচ। ছবি : সময়ের আলোগোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে ৩ দিনব্যাপী নৌকা বাইচ শুরু হয়েছে। এ নৌকা বাইচ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বিল বাঘিয়ার নৌকা বাইচ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের মতো এ বছরও এই নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষের মিলন মেলা বসেছে কালিগঞ্জে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে নান্দনিক এ নৌকা বাইচ বিপুল আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে। চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যে লালিত দু’শ বছরের আকর্ষণীয় এ নৌকা বাইচে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর , পিরোজপুর ,নড়াইল , বরিশাল জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের শতাধিক সরেঙ্গা, ছিপ, কোষা, চিলাকাটা, জয়নগর বাচারী নৌকা অংশ নেয়।
আবহমান গ্রাম বাংলার অতি প্রাচীন কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে হাজারো প্রাণের আনন্দ-উচ্ছলতায় উপজেলার কালিগঞ্জ নদীতে কালিগঞ্জ বাজার থেকে খেজুরবাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ নৌকা বাইচ ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এ নৌকা বাইচে বাড়তি আকর্ষণ ছিল নৌকায় নৌকায় মেলা। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। দুপুর থেকে এ নৌকা বাইচ শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে নৌকা বাইচের একের পর এক ছোপ। বিভিন্ন বয়সের মানুষ খালের দুপাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকা বাইচের আনন্দ উপভোগ করেন। তারা হাতে তালি দিয়ে উৎসাহ দেন বাইচের নৌকার মাল্লাদের। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। গোটা এলাকায় সঞ্চারিত হয় উৎসবের আমেজ।
কলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি প্রভাস মজুমদার বলেন, জলাভূমি বেষ্টিত কোটালীপাড়ার জীবন জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল নৌকা। প্রায় দু’শত বছর আগে লক্ষ্মীপূজার সময় নৌকা নিয়ে এলাকার মানুষ জমিদার শিবরাম চৌধুরীর বাড়িতে যেতেন। পূজা দেখে ফেরার সময় নৌকায় নৌকায় পাল্লা হতো। নৌকার মাধ্যমে চিত্তবিনোদনের চিন্তা থেকে নৌকা বাইচের প্রচলন শুরু হয়। সে থেকেই লক্ষ্মী পূজার পরের দিন থেকে এ অঞ্চলের নৌকা বাইচ হয়ে আসছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।
কলাবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সুমন মজুমদার বলেন, ছোট বেলা থেকেই এ নৌকা বাইচ দেখে আসছি। এখানে কখনোই কাউকে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে বাইচের আয়োজন করতে হয় না। স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ এলাকার লোকজন এই নৌকাবাইচের আয়োজন করে থাকে।
কালিগঞ্জের নৌকা বাইচ দেখতে আসা গৃহিণী শিল্পী বাড়ৈ বলেন, জীবনে অনেক স্থানের নৌকা বাইচ দেখেছি। কিন্তু এখানকার মতো এত বড় ও সুন্দর রাজকীয় ঢঙের নৌকা বাইচ অন্য কোথাও দেখিনি।
সময়ের আলো/আতা