ছবি : সংগৃহীতঅস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে টেস্ট জয় নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছে বাংলাদেশকে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সমীকরণও তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট জিততে পারলে ফাইনালের দৌড়ে ভালোভাবেই টিকে থাকার সুযোগ। নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে একটি টেস্ট ড্র করতে পারলে সম্ভাবনা বাড়বে আরও। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন প্রতিটি টেস্টই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ফাইনালে খেলার হিসাব-নিকাশ নিয়ে এখনই ভাবতে চান না অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার চোখ আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে।
আজ থেকে মিরপুরে শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ। সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বারবার উঠে এসেছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার প্রসঙ্গ। তবে শান্তর ভাবনায় আপাতত নেই সেই দূরবর্তী লক্ষ্য। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট নিয়েও এখনই ভাবতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেবল সামনে থাকা ম্যাচটি। শান্তর ভাষায়, ‘সত্যি বলতে কি একদমই ভাবিনি (ফাইনাল খেলতে কী করতে হবে, তা নিয়ে)। আমি শুধু এই টেস্টটা নিয়েই ভাবছি, এমনকি এই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টও ভাবনায় নেই।’
ফাইনালে খেলার সমীকরণ নিয়ে হিসাব না কষে ম্যাচ ধরে এগিয়ে যাওয়াই বাংলাদেশের কৌশল। অধিনায়কের বিশ্বাস, ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে বড় লক্ষ্যও একসময় অর্জিত হবে। গত কয়েক বছরে এ পদ্ধতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে দল। দলের ভাবনাটা আরও পরিষ্কার করে শান্ত বলেন, ‘দল হিসেবে আমরা সব সময় ভাবি, এই ম্যাচ বা সিরিজটা কীভাবে খেলব। এ ধরনের ম্যাচ বা সিরিজ জিততে পারলে আমাদের লক্ষ্যগুলো এমনিতেই পূরণ হয়ে যায়। তাই দল হিসেবে আমরা সব সময় ছোট ছোট লক্ষ্য নিয়ে ভাবি। গত কয়েক বছরেও আমরা এভাবেই এগিয়েছি।’
অবশ্য সামনের পথটা সহজ নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শেষ করেই দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে উড়াল দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে। সেখানে ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হবে দুই টেস্টের সিরিজ। এরপর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ সিরিজে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। অর্থাৎ আগামী এক মাসের মধ্যে টেস্টের ব্যস্ত সূচি অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের সামনে। এই দীর্ঘ অভিযানে ভালো অবস্থানে থাকতে হলে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টে ভালো করা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এত সমীকরণ ও প্রত্যাশার চাপ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা করতে চান না শান্ত। তার মতে, ফলের চিন্তার পাশাপাশি নিজেদের প্রক্রিয়া ঠিক রাখা এবং মাঠে সর্বোচ্চটা দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘চাপ ও চ্যালেঞ্জ সব সময়ই থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা এই বিষয়গুলো কীভাবে উপভোগ করছি, নিজেদের প্রক্রিয়া মেনে চলছি কি না এবং নিজেদের কাজগুলো ঠিকমতো করছি কি না। খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের ১২০ শতাংশ দিচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলো যদি আমরা ঠিকভাবে করতে পারি, তা হলে আমার বিশ্বাস, এই দুই ম্যাচে আমরা ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলব এবং ভালো একটি টেস্ট সিরিজ কাটাতে পারব।’
এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের আগে দলগতভাবে প্রস্তুতির সময় খুব বেশি পায়নি বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যস্ত ছিলেন দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার। ফলে দল হিসেবে একসঙ্গে অনুশীলন করার সুযোগ মিলেছে অল্পই। বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গত এক সপ্তাহে প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকায়। সফরের আগে চেন্নাইয়ে ক্যাম্প করার পাশাপাশি ঢাকায় এসে দুদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা। প্রস্তুতির সময়ের এই পার্থক্য থাকলেও নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে অসন্তুষ্ট নন শান্ত। তার মতে, প্রত্যেকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিপক্ষ কতটা প্রস্তুত, সেটি নিয়ে না ভেবে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেরাটা দেওয়াতেই মনোযোগ বাংলাদেশের।
শান্ত বলেন, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। যতটুকু সময় পেয়েছি, প্রত্যেকে নিজের যে জায়গাগুলোতে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পেরেছে। প্রতিপক্ষ কেমন প্রস্তুতি নিয়েছে, সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছি না। আমাদের প্রস্তুতি কতটা ভালো হয়েছে এবং আমরা কতটা ভালোভাবে তৈরি হয়ে ম্যাচটা খেলতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গা থেকে আমি খুশি।’
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাংলাদেশের সামনে বড় প্রেরণা হয়ে থাকছে। তবে সেই স্বপ্নের পথে একসঙ্গে অনেক দূর এগোনোর হিসাব করতে চান না শান্ত। আপাতত তার লক্ষ্য মিরপুরের প্রথম টেস্টে ভালো ক্রিকেট খেলা। সেই শুরুটা ইতিবাচক হলে পরের ম্যাচ ও সিরিজের পথও সহজ হতে পারে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি