অস্বস্তি কাটিয়ে ফেরার লড়াই বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলা

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে জয় চাই বাংলাদেশের। অথচ গুরুত্বপূর্ণ সেই লড়াইয়ের আগে মাঠের বাইরের অস্থিরতা, সাম্প্রতিক

2026-10-27T23:06:13+00:00
2026-10-27T23:56:42+00:00
 
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
খেলা
অস্বস্তি কাটিয়ে ফেরার লড়াই বাংলাদেশের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৬ পিএম  আপডেট: ২৭.১০.২০২৬ ১১:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে জয় চাই বাংলাদেশের। অথচ গুরুত্বপূর্ণ সেই লড়াইয়ের আগে মাঠের বাইরের অস্থিরতা, সাম্প্রতিক ব্যর্থতা আর একাদশ নির্বাচন নিয়ে নানা দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে দলকে। ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে সরিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের কাছে হার। সবমিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে স্বস্তিতে নেই স্বাগতিকরা। অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো পারফরম্যান্সের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে ক্যারিবীয়রা। আজ মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরু হচ্ছে দুই দলের ভিন্ন বাস্তবতা আর একই লক্ষ্য নিয়ে— জয়।

বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের দুর্বলতা সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে সামনে এসেছে। তবে টেস্ট দলে অভিজ্ঞতার বিচারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের সঙ্গে আছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তার ডেপুটি মেহেদী হাসান মিরাজ। বিকল্প ব্যাটার হিসেবে স্কোয়াডে রয়েছেন জাকের আলী ও তাওহিদ হৃদয়। তবে অভিজ্ঞতার এই শক্তি মাঠে কতটা কাজে লাগে, সেটিই হবে দেখার।

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ সাজানো নিয়েও ভাবতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। টেস্ট দলে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ। একাদশে জায়গা পেতে লড়াইয়ে থাকবেন শরীফুল ইসলামও। তাদের সঙ্গে আছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে বোলিং আক্রমণের দায়িত্ব সামলানো হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন। পেস আক্রমণে বিকল্পের অভাব নেই, কিন্তু সঠিক সমন্বয়ই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

স্পোর্টিং উইকেটের কারণে এবং দলে স্পিন অলরাউন্ডার সহ-অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ থাকায় তাসকিন ও শরীফুলের মধ্যে একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে বাদ পড়তে পারেন অফ স্পিনার নাঈম হাসান। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে লিটন দাসের ফিটনেস। হিপের চোটের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে পারেননি এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। অনুশীলনে চোট পাওয়া মুশফিকুর রহিমকে নিয়েও রয়েছে সংশয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ক্রিকেটারের শারীরিক অবস্থা বাংলাদেশের পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো পারফরম্যান্সের পর আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও সেটি ছিল সাদা বলের ক্রিকেট, তবু উপমহাদেশের কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে দলটি। সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকা খেলোয়াড়দের বাইরে লাল বলের ক্রিকেটাররা বাংলাদেশ সফরের আগে চেন্নাইয়ে প্রস্তুতি ক্যাম্প করেছেন। ব্যাটিং পরামর্শক ফ্লয়েড রেইফার সেই প্রস্তুতিকে দিয়েছেন ১০-এ ১০।

ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অধিনায়ক রোস্টন চেজ, ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল, কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গু। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও অবদান রাখতে পারবেন জাস্টিন গ্রিভস। সহ-অধিনায়ক জোমেল ওয়ারিকান সামলাবেন স্পিন আক্রমণের নেতৃত্ব। পেস বিভাগে থাকবেন কেমার রোচ, জেডেন সিলস ও শামার জোসেফ। উইকেটকিপিংয়ে শাই হোপের পরিবর্তে দেখা যেতে পারে জশুয়া দা সিলভাকে। এ ছাড়া অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা বাঁহাতি স্পিনার জশুয়া বিশপ ও পেস বোলিং অলরাউন্ডার শামার স্প্রিংগারের মধ্যে একজনকে একাদশে রাখার সুযোগ রয়েছে।

মিরপুর টেস্টে বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে মুশফিক ও রোচের দ্বৈরথ। ২০০৯ সাল থেকে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রোচ এখন পর্যন্ত মুশফিককে আউট করেছেন তিনবার। ১০০ টেস্ট খেলা বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হওয়ার পর ছয় ম্যাচে মুশফিকের ব্যাটিং গড় ৪৪.৭। চলতি মাসের শুরুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ৮১ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে এক হাজার রান পূর্ণ করতে তার প্রয়োজন আর ১১৮ রান।


চলতি বছর ভালো ছন্দে আছেন রোচও। ২২.৪ গড়ে নিয়েছেন ১০ উইকেট। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫১ রানে ৪ উইকেট তার উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স। মুশফিককে চাপে রাখা হবে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

মিরপুরের উইকেট নিয়েও রয়েছে কৌতূহল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামির মতে, গত বছর বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজে খেলা উইকেটের সঙ্গে এবারের উইকেটের পার্থক্য রয়েছে। গত বছর একটি ম্যাচে ৫০ ওভার স্পিন করিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। তবে এরপর থেকে এই ভেন্যুতে তুলনামূলক ভালো উইকেট তৈরি করা হচ্ছে। তার ওপর প্রথম তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় ম্যাচের গতিপথে আবহাওয়ার প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে সাফল্য পাওয়ার চ্যালেঞ্জ। মাঠের বাইরের অস্থিরতা আর শঙ্কা পেছনে ফেলে স্বাগতিকরা কতটা লড়াই করতে পারে, তার উত্তর মিলবে মিরপুরের ২২ গজেই।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   বাংলাদেশ  বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: