স্ট্যানলি ম্যাথুস থেকে হ্যারি কেইন

আরমান মুকুল

খেলা

সময় বয়ে যায়, বদলে যায় ফুটবলের প্রজন্ম, শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে পাল্টে যায় রাজত্ব করা নায়কদের নাম। কিন্তু ইতিহাসের কিছু অধ্যায় ফিরে

2026-10-27T23:24:42+00:00
2026-10-27T23:24:42+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
খেলা
ব্যালন ডি’অর
স্ট্যানলি ম্যাথুস থেকে হ্যারি কেইন
আরমান মুকুল
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
সময় বয়ে যায়, বদলে যায় ফুটবলের প্রজন্ম, শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে পাল্টে যায় রাজত্ব করা নায়কদের নাম। কিন্তু ইতিহাসের কিছু অধ্যায় ফিরে আসে নতুন রূপে। ব্যালন ডি’অরের গল্পটাও যেন তেমনই। ১৯৫৬ সালে ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথুসের হাত ধরে যে যাত্রার শুরু, সাত দশক পর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে আবারও এক ইংলিশ তারকা— হ্যারি কেইন। এবারই প্রথম ফ্রান্সের বাইরে লন্ডনে বসেছিল ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ এই আসর। 

প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ম্যাথুস। এরপর ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের এই পুরস্কার হয়ে উঠেছে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের স্বপ্নের মুকুট। বদলেছে ফুটবলের ধরন, এসেছে একের পর এক কিংবদন্তি। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর আর কোনো ইংলিশ ফুটবলারের হাতে ওঠেনি এই পুরস্কার। দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে সেই গৌরব ফিরেছে ইংল্যান্ডে। বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের স্ট্রাইকার কেইনের হাত ধরে নতুন করে লেখা হয়েছে ইতিহাস।

ম্যাথুস থেকে ওয়েন, ওয়েন থেকে কেইন— তিনটি নাম, তিনটি ভিন্ন সময়, অথচ ইতিহাসের সুতোয় বাঁধা একই বৃত্তে। তাই কেইনের এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কেইনের সাফল্যে ফুটবলবিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এসেছে অভিনন্দন। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল থেকে বায়ার্ন মিউনিখের শীর্ষ কর্মকর্তারা, ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স উইলিয়াম থেকে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরার— সবাই নিজ নিজ ভাষায় তুলে ধরেছেন কেইনের এই অর্জন। 

কেইন : ‘আমি প্রায় বাকরুদ্ধ’
পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কেইন। বলেছেন, ‘আমি প্রায় বাকরুদ্ধ। লন্ডনে এই পুরস্কার জেতায় মুহূর্তটি আমার কাছে আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে। আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এ বছর প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন ছিল বলে আমি মনে করি।’

নিজের সাফল্যের পেছনে বায়ার্নের সতীর্থদের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। তার মতে, সতীর্থদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অনুপ্রেরণা তাকে আরও ভালো খেলোয়াড় হতে সাহায্য করেছে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে কেইন জানান, একসময় নিজেকেও এত দূর আসতে দেখেননি তিনি। ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসই তাকে এই পর্যায়ে এনেছে।

টুখেল : ‘আপনাকে নেতা হিসেবে পেয়ে আমরা ভাগ্যবান’
কেইনের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। তার মতে, কেইনের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করার মতো শব্দ অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে। ফুটবলবিশ্ব যে অবশেষে তার সামর্থ্যরে যথাযথ স্বীকৃতি দিয়েছে, তাতেই আনন্দিত তিনি।

বায়ার্নের চোখে ‘গর্বের দিন’
কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়কে ক্লাবের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন বায়ার্ন মিউনিখের সভাপতি হার্বার্ট হাইনার। তার মতে, কেইন শুধু গোল করেন না, দলের জন্য নানা দিক থেকেই অবদান রাখেন। ক্লাবের কিংবদন্তি ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলার ও কার্ল-হাইঞ্জ রুমেনিগের সঙ্গে কেইনের নাম উচ্চারিত হওয়াকে বায়ার্নের ইতিহাসের অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি।

ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী ইয়ান-ক্রিস্টিয়ান ড্রেসেনও কেইনের প্রশংসা করেছেন। তার ভাষায়, রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি কেইনের ব্যক্তিত্বও বায়ার্নের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। জার্মান ক্লাবের কোনো খেলোয়াড়ের তিন দশক পর ব্যালন ডি’অর জেতাকে বুন্দেসলিগার জন্যও বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

প্রিন্স উইলিয়াম ও শিয়েরারের অভিনন্দন
কেইনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স উইলিয়াম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি এই অর্জনকে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন। কেইনকে দারুণ অধিনায়ক ও অসাধারণ খেলোয়াড় আখ্যা দিয়ে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরারও কেইনের সাফল্যে মুগ্ধ। তার মতে, সহজ পথে শীর্ষে পৌঁছাননি কেইন। ধারে বিভিন্ন ক্লাবে খেলতে হয়েছে, নিজের যোগ্যতা প্রমাণে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। শিয়েরারের চোখে, কেইনের এই যাত্রা অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছানোর উদাহরণ।

টটেনহাম বলল, ‘আমাদেরই একজন’
কেইনের সাবেক ক্লাব টটেনহাম হটস্পারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ক্লাবটির বার্তা ছিল, ‘আমাদেরই একজন’। পুরস্কার গ্রহণের বক্তব্যেও টটেনহামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কেইন। ১১ বছর বয়সে ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, টটেনহামের সমর্থন, কোচ ও দিকনির্দেশনা ছাড়া আজকের অবস্থানে পৌঁছানো তার জন্য কঠিন হতো।

কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন তার সাবেক ও বর্তমান সতীর্থরা। ডেলে আলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তোমার জন্য গর্বিত, ভাই।’ ডিজেড স্পেন্স কেইনকে ‘আমার অধিনায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন। মরগান রজার্সও তাকে সর্বকালের সেরা আখ্যা দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ ছাড়া লুইস দিয়াজসহ আরও অনেক ফুটবলার ইংলিশ স্ট্রাইকারের এই অর্জনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জাতীয় দলের সতীর্থ জুড বেলিংহাম কেইনের পোস্টে গোট বলে কমেন্ট করেছেন। 

ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে অন্য বিজয়ীরাও
এবারের ব্যালন ডি’অরে বিভিন্ন বিভাগে স্বীকৃতি পেয়েছেন ফুটবলের আরও অনেক তারকা। মেয়েদের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন স্পেন ও লন্ডন সিটি লায়নেসের অ্যালেক্সিস পুতেয়াস। ছেলেদের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের লামিনে ইয়ামাল। টানা তৃতীয়বার এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। মেয়েদের বিভাগে টানা দ্বিতীয়বার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হয়েছেন বার্সেলোনার ভিকি লোপেজ।

পুরুষদের সেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মেয়েদের বিভাগে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ। পুরুষদের সেরা গোলরক্ষক স্পেনের উনাই সিমন্স, আর নারী বিভাগে সেরা হয়েছেন বার্সেলোনার কাটা কোল।

সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য সক্রেটিস পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের বুকায়ো সাকা। সেরা পুরুষ ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে পিএসজি, মেয়েদের বিভাগে সেরা বার্সেলোনা। পুরুষদের সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কারও উঠেছে কেইনের হাতে। নারী বিভাগে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন মেক্সিকো ও পাচুয়ার শার্লিন কোবরাল।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   স্ট্যানলি ম্যাথুস  হ্যারি কেইন  ব্যালন ডি’অর 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: