প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীতসাত বছর ধরে অকেজো ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড, ডাইভিংয়ের স্প্রিং বোর্ডের নমনীয়ভাবও আগের মতো নেই। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গ্যাস-সংকট। এমন সব সংকট আর আক্ষেপ নিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ম্যাক্স গ্রুপ ৩৫তম জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা। চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। মিরপুর সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে। এবার মোট ৪৯টি ইভেন্টে ৪৭০ পুরুষ ও ১০২ নারী সাঁতারু এবং মিট অফিসিয়ালসহ ৮০০ জন অংশগ্রহণ করবেন।
গতকাল বিওএ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক ও টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক সেলিম মিয়া, কোষাধ্যক্ষ রেজাউল হোসেন বাদশা ও ম্যাক্স গ্রুপের প্রতিনিধি ইব্রাহিম খলিল পলাশ।
সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক দেওয়ান সজল ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড সম্পর্কে জানান, ‘আমরা প্রায় তিন মাস আগে কমিটিতে এসেছি। স্কোরবোর্ড বসানো হয়েছে কয়েক বছর আগে। আমরা জেনেছি তা অকার্যকর। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ অবগত। আমরা শুধু এটুকু বলতে পারি, মিরপুর সুইমিংপুল একটি আন্তর্জাতিক সাঁতার ভেন্যু। এই ভেন্যুতে স্কোরবোর্ড ছাড়া আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব নয়। জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় সাঁতারুদের ফলাফল নির্ধারণে এখন হ্যান্ড টাইমিং অকার্যকর। আশাকরি ক্রীড়া প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে।’
সাঁতার ফেডারেশনের গ্যাস লাইন অনেক দিন ধরেই বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিনের বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছন্ন করে দিয়েছে। বকেয়া বিলের পরিমাণ কোটি টাকার ওপরে। এত টাকা ফেডারেশনের পক্ষে পরিশোধ করা কষ্টসাধ্য। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কড়া নির্দেশনা বিল ফেডারেশনকেই পরিশোধ করতে হবে। এ নিয়ে খোদ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের দ্বারস্থ হয়েছে ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। দুই পক্ষের আলোচনা হলেও এর সমাধান মেলেনি। সামনে রয়েছে সাঁতারুদের বড় ইভেন্ট এসএ গেমস। জাতীয় প্রতিযোগিতার পর পরই শুরু হবে সাঁতারুদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ। আসছে শীত মৌসুম। তখন ঠান্ডায় অনুশীলন করা সাঁতারুদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় গ্যাস-সংযোগ ভীষণ প্রয়োজন বলে গতকাল গণমাধ্যমকে জানান সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।
জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় এবার রেকর্ডধারীদের জন্য থাকছে ৫ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কার। এর বাইরে ব্যক্তিগত এবং দলগত ইভেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের জন্য সোনা, রুপা, ব্রোঞ্জের পাশাপাশি ট্রফি-মেডেল তো থাকছেই।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি