৩৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নেভেনি ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন। ছবি : সময়ের আলোকক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন ৩৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নেভেনি। ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসের আগুন আরও সাত দিন জ্বলবে বলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) জানিয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত আগুন জ্বলছিল। গ্যাসের প্রবাহ ও চাপ বেশি থাকায় জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, ভূগর্ভ থেকে গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগুন আরও অন্তত সাত দিন জ্বলতে পারে। দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহাম।
গ্যাস উদ্গীরণস্থল ও আশপাশের এলাকায় যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ ও ভূমিধসের আশঙ্কা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও আগন্তুকদের নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বাপেক্স, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২০০ মিটার দূরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদেরও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইনানীর ছোট ব্রিজসংলগ্ন ছোট খাল এলাকায় একটি বসতভিটার পাশে গভীর নলকূপ খননের সময় আগুনের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়রা জানান, তিন দিন ধরে চলা খননকাজের একপর্যায়ে প্রায় এক হাজার ফুট গভীর থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বেরিয়ে আসে। এরপরই আগুন জ্বলে ওঠে। দীর্ঘ সময় আগুন জ্বলতে থাকায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট, সেনাবাহিনীর ফায়ার টিম ও পুলিশ কাজ শুরু করে। পানি ও বালু ব্যবহারসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে চেষ্টা চালিয়েও আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি মূল্যায়নে বাপেক্সের সহায়তা নেওয়া হয়।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, ভূগর্ভের যে স্তর থেকে গ্যাস বেরিয়ে আসছে, সেখানে গ্যাসের চাপ ও নির্গমনের তীব্রতা বেশি। এ অবস্থায় জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে ভূগর্ভে আগুন ছড়িয়ে পড়া কিংবা অন্য স্থানে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গ্যাসের প্রবাহ ও চাপ কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কৌশল নিতে হবে। ভূগর্ভের সংশ্লিষ্ট স্তর থেকে গ্যাসের নির্গমন বন্ধ হয়ে গেলে আগুন স্বাভাবিকভাবে নিভে যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে আগুন আরও অন্তত সাত দিন জ্বলতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এটি নিশ্চিত সময়সীমা নয়। গ্যাসের প্রবাহ ও ভূগর্ভের পরিস্থিতির ওপর আগুনের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে।
বিদ্যুৎহীন প্রায় ৮ হাজার পরিবার, আতঙ্ক আর দুর্ভোগ
আগুনের শিখা বিদ্যুতের খুঁটি ও তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইনানী থেকে মনখালী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শামীমুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাড়িতে গোসলের পানি পর্যন্ত নেই। এ ছাড়া আগুনের কারণে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা তো আছেই।
তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে লাইন পরিবর্তনসহ বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম কাইজার নুর।
সময়ের আলো/আতা