ছবি : সংগৃহীতরাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে সড়ক ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা অভিযানে প্রায় ২ হাজার দোকান সরানো হয়। তবে অভিযান শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকটি দোকান আবার ফুটপাথে বসতে দেখা গেছে। এতে উচ্ছেদ অভিযানের কার্যকারিতা ও হকারদের পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একই দিন গুলিস্তানে সড়ক ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-সংলগ্ন ফুটপাথ থেকে শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
মিরপুর-১ নম্বরে শাহ আলী মাজার, শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শপিং কমপ্লেক্স, ছিন্নমূল মার্কেট, ফেয়ার প্লাজা, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, বাগদাদা ও সনি হল পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাথ থেকে দোকান সরানো হয়। অভিযান পরিদর্শন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
উচ্ছেদের কারণে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বিকল্প ব্যবস্থা না করে দোকান সরিয়ে দেওয়ায় জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কাপড় ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, ‘এখন কী করব, জানি না। আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দিয়ে তারপর সরানো উচিত। আমরা কাজ করে খাই।’
সাগর নামের এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলেন, ‘এত দিন ধরে ব্যবসা করছি। এখন ফুটপাথ থেকে তুলে দিচ্ছে। আমরাও উঠে যেতে চাই। তবে তার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত।’
অভিযান প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সাংবাদিকদের বলেন, শুধু মিরপুর নয় নগরবাসীর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে— এমন সব জায়গা দখলমুক্ত করা হবে। শহরের প্রতিটি ফুটপাথ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।
অভিযান শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে কয়েকজন দোকানিকে আবার ফুটপাথে বসতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, দোকানের মালামাল বিক্রি না হলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত মালামাল বিক্রির সুযোগ দেওয়া উচিত। এরপর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এর আগে মিরপুর-১০ নম্বরেও ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। সে সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান হকাররা। এদিকে গুলিস্তানে ডিএসসিসির অভিযানে চার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদ কর্মী ও পুলিশের ছয় প্লাটুন সদস্য অংশ নেন। পে-লোডারসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলার পাশাপাশি দোকানের মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযান পরিদর্শন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সড়ক ও ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখা হচ্ছে। হকারদের জন্য নির্ধারিত কিছু ফুটপাথ, নৈশকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট রয়েছে। তারা কেবল নির্ধারিত স্থানেই বসতে পারবেন। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক পরিষ্কার রাখা হবে, মূল সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না।
ডিএসসিসির প্রশাসক আরও বলেন, হকারদের বিভিন্নভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদের পরও তারা আবার বসায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম অমান্য করলে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হবে। দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে