ইংলিশ ফুটবলে জায়ান্ট-কিলিংয়ের ইতিহাসে নতুন এক রূপকথা লিখল ফ্লিটউড টাউন। ছবি : সংগৃহীতইংলিশ ফুটবলে জায়ান্ট-কিলিংয়ের ইতিহাসে নতুন এক রূপকথা লিখল ফ্লিটউড টাউন। চতুর্থ বিভাগের দলটির কাছে হার মেনেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। ইএফএল কাপের শেষ ষোলোতে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্লিটউড। তাদের এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলকে জয়ের দুয়ারে পৌঁছে দেন তিনি। এরপর কনর হগেইয়ের নিখুঁত শটে নিশ্চিত হয় আর্সেনাল বধের মহাকাব্য।
ফ্লিটউডের মাঠ হাইবারি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিল আর্সেনাল। ম্যাচের শুরুর দিকে স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়ে যাওয়ায় কিছুক্ষণ খেলা বন্ধও রাখতে হয়। খেলা পুনরায় শুরু হলেও ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয় মিকেল আর্তেতার দল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২১ মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বিরতির পর দুটি পরিবর্তন আনেন আর্তেতা। জুরিয়েন টিম্বারের বদলে বেন হোয়াইট এবং স্যালমনের জায়গায় মার্টিন ওডেগার্ডকে নামান তিনি। তাতে অবশ্য খুব বেশি সময় লাগেনি সমতায় ফিরতে। ৫০ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আসা ক্রস সামলাতে ব্যর্থ হয় ফ্লিটউডের রক্ষণ। সেই সুযোগে জটলার মধ্যে থেকে বল জালে পাঠান ভিক্টর ইয়োকেরেস।
৮৫ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় আর্সেনাল। ফ্লিটউডের খেলোয়াড়ের শক্ত চ্যালেঞ্জের পর প্রতিপক্ষের দিকে পা ছুড়ে মারায় লাল কার্ড দেখেন তরুণ ম্যাক্স ডাউম্যান। ফলে ম্যাচের শেষ সময়টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় গানারদের। শেষ দিকে বেন হোয়াইটের নিশ্চিত মনে হওয়া গোলের প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ঠেকান লিঞ্চ। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দুই দলের খেলোয়াড়রা প্রথম কয়েকটি শটে নিখুঁত ছিলেন। কিন্তু আর্সেনালের হয়ে ব্রুনো গিমারায়েসের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন লিঞ্চ। এরপর হগেইয়ের শট জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ফ্লিটউডের সমর্থকরা।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে গত মৌসুমে গ্রিমসবি টাউনের চমক জাগানো সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন লিঞ্চ। গত মৌসুমে ইএফএল কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে টাইব্রেকারে ১২-১১ গোলে হারিয়েছিল চতুর্থ বিভাগের দল গ্রিমসবি। নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর সেই জয় ফুটবলবিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল।
লিঞ্চ বলেন, ‘পুরো ম্যাচে আমাদের দলের সবাই দুর্দান্ত খেলেছে। ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়নদের হারানো— এটা অবিশ্বাস্য! গত বছর গ্রিমসবি ইউনাইটেডকে হারানোর ঘটনা থেকে আমরা সাহস পেয়েছি। আমরা নিজেদের মধ্যে তুলনা করেছিলাম। ভেবেছিলাম, শেষ পর্যন্ত যদি ভালোভাবে লড়াই করতে পারি, তা হলে কী হয় দেখা যাবে।’
ফ্লিটউড গোলরক্ষক আরও বলেন, ‘ফ্লিটউডে এমন রাতই তো প্রত্যাশিত! আমরা জানতাম আবহাওয়া খারাপ থাকবে, ঝড়ের মতো পরিস্থিতি হতে পারে। ভেবেছিলাম, সেটি আমাদের পক্ষে কাজে লাগতে পারে। এই জয় ক্লাব ও শহরের জন্য অসাধারণ। সবার কাছে এর অর্থ অনেক।’
টাইব্রেকারে জয়সূচক শট নেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে হগেই বলেন, ‘আমি জানি না। শুধু নিজের জায়গা বেছে নিয়ে বলটা জালে পাঠাতে চেয়েছি। ওপরের কোণে মেরেই দৌড় দিয়েছি! কী হচ্ছে, এখনও বুঝতে পারছি না। ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত। আমরা ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছি, এটাই প্রমাণ করে দল হিসেবে আমরা কতটা ভালো।’
এই হারের মধ্য দিয়ে ঘরোয়া কাপে চতুর্থ বিভাগের দলের কাছে বর্তমান ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের বিরল ঘটনাও আবার দেখা গেল। ১৯৯২ সালে এফএ কাপে আর্সেনালকে হারিয়েছিল রেক্সহ্যাম। এর আগে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে চেস্টার সিটির কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল লিডস ইউনাইটেড। ইএফএল কাপের ইতিহাসে বর্তমান শীর্ষ লিগ চ্যাম্পিয়নকে চতুর্থ বিভাগের দলের ছিটকে দেওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে