অতিরিক্ত হাসি ঈমান দুর্বল করে

মিজানুর রহমান

ইসলাম

মানুষ হাসির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করে। ইসলামেও হাসি অনুমোদিত বিষয়। নবীজি (সা.) হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করতেন। তবে অতিরিক্ত হাসি ইসলামে

2026-10-29T17:04:18+00:00
2026-10-29T17:04:18+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ইসলাম
অতিরিক্ত হাসি ঈমান দুর্বল করে
মিজানুর রহমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৪ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
মানুষ হাসির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করে। ইসলামেও হাসি অনুমোদিত বিষয়। নবীজি (সা.) হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করতেন। তবে অতিরিক্ত হাসি ইসলামে অপছন্দনীয়। নবীজি (সা.) অতিরিক্ত হাসি পরিহার করতে বলেছেন। অনর্থক হাসার মধ্যে কোনো সুফল বা সফলতা নেই। পক্ষান্তরে কান্নায় রয়েছে সফলতা, আল্লাহর রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি। আল্লাহ চান মানুষ কম হাসুক, পরিমিত হাসুক। কেননা বেশি হাসলে অন্তর মরে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদলাতে অনেক বেশি কাঁদবে’ (সুরা তওবা : ৮২)। এই আয়াতের তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘দুনিয়া সামান্য কয়েক দিনের আবাসস্থল। এতে যত ইচ্ছা হেসে নাও। অতঃপর দুনিয়া যখন শেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর সান্নিধ্যে উপস্থিত হবে তখনই কান্নার পালা শুরু হবে যা আর নিবৃত্ত হবে না।’ (তাফসিরে মাজহারি)

আল্লাহর অনুমতিক্রমে জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.)-কে অনেক গোপন রহস্যের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁকে দুনিয়ার জীবনে জান্নাত-জাহান্নাম দেখানো হয়েছে। তাঁর জন্যই জান্নাতের সৃষ্টি। তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব। তাঁর আগে-পরের সব গুনাহ মাফ করা হয়েছে। তবু তিনি কম হাসতেন, কাঁদতেন বেশি। মানুষকেও কম হাসতে ও বেশি করে কাঁদতে উপদেশ দিতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন— ‘আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে তোমরা খুব কমই হাসতে এবং খুব বেশি কাঁদতে।’ (বুখারি : ৬৪৮৫; তিরমিজি : ২৩১৩)

কান্না অন্তরকে নরম করে, হৃদয়ে প্রশান্তি আনে, দুঃখকে হালকা করে। মানুষের মন রোদনকারীর প্রতি খুব সহজে আকর্ষিত হয়। আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারীকে তিনি ভালোবাসেন। তাঁর দরবারে গুনাহ মাফে ক্রন্দনকারীকে মাফ করে দেন। তাঁর ভয়ে রোদনকারীর জন্য তিনি চিরসুখ ও আরামের জায়গা জান্নাতের ফয়সালা চূড়ান্ত করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। যেরূপ দোহনকৃত দুধ আবার স্তনে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না।’ (তিরমিজি : ২৩১১)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনেছি, ‘সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা সেদিন তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তন্মধ্যে ওই ব্যক্তি একজন, যে নির্জনে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে; আর তার চোখ থেকে পানি ঝরে’ (বুখারি ও মুসলিম)। অনর্থক কথা বলা ইসলামে নিষিদ্ধ। মানুষকে হাসানোর জন্য বেহুদা অর্থহীন কথা বললে জাহান্নামে জ্বলতে হবে। তিরমিজি শরিফে ‘লোকদের হাসানোর উদ্দেশ্যে কথা বলা’ অধ্যায়ে ইমাম তিরমিজি (রহ.) সনদের পরম্পরায় আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে লোক এমন কথাও বলে, যে প্রসঙ্গে সে মনে করে যে তাতে কোনো অসুবিধা নেই, এই জন্য সে সত্তর বছর জাহান্নামে অবস্থান করবে।’ (তিরমিজি : ২৩১৪)

মানুষ সব কথাবার্তায় হাসে না। অনেক সময় হাসির রঙ্গমঞ্চ সাজানো যায় মিথ্যা বলে। অথচ হাসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলা গুনাহের কাজ, ধ্বংসের কারণ। ইবনে হাকিম (রহ.) বর্ণনা করেছেন তার দাদা থেকে, তার দাদা বলেন, আমি মুহাম্মদ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘সেই লোক ধ্বংস হোক, যে মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে। সে নিপাত যাক, সে নিপাত যাক’ (তিরমিজি : ২৩১৫)। তাই আমাদের উচিত অধিক ও অনর্থক হাসার চেয়ে আল্লাহর ভয়ে বেশি বেশি কান্নাকাটি করা।

সময়ের আলো/জেডআই
  বিষয়:   ঈমান  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: