ফিতা কেটে জব ফেয়ার ২০২৬ -এর উদ্বোধনের দৃশ্য । ছবি : সংগৃহীত শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্র গড়ে তুলতে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির গুলশান ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব ফেয়ার ২০২৬’।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাকরির আবেদন, প্রাথমিক সাক্ষাৎকার ও ক্যারিয়ারবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের উদ্যোগে এবং এক্সিলেন্স বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ চাকরিমেলার আয়োজন করা হয়।
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল কবির, রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. মীর মোহাম্মদ আজাদ, স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম এবং স্কুল অব ‘ল’ -এর ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, প্রক্টর মো. আনিছুর রহমান, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কালিয়ার রেপ্লিকা লিমিটেড, স্টার সিনেপ্লেক্স, ইউনাইটেড ফিন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি, সম্ভব জবস, আবুল খায়ের গ্রুপ ও ক্যারিয়ার প্রো বিডি। প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজার, বিমা, উৎপাদন, বিনোদন, আর্থিক সেবা ও নিয়োগসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিত্ব করে।
মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ করেন এবং প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নেন। পাশাপাশি প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও কর্মজীবনসংক্রান্ত আগ্রহ সম্পর্কে জানার সুযোগ পান নিয়োগদাতারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সব বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য মেলাটি উন্মুক্ত ছিল। তবে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, নিয়োগদাতাদের চাহিদা বোঝা এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পাওয়াই ছিল অংশগ্রহণকারীদের অন্যতম লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়ানো এবং তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি জোরদার করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের মাধ্যমে বছরজুড়ে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, সিভি তৈরির কর্মশালা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আয়োজকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কর্মজীবনে প্রবেশের জন্য তাদের প্রস্তুত করাও গুরুত্বপূর্ণ। জব ফেয়ারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, চাকরির বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা অর্জন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেশাগত জীবন শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন।
সময়ের আলো/এসকে