প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম আপডেট: ২৯.১০.২০২৬ ১১:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত নৌ-পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আকতার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের গোপনে বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা করান হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে মেঘনা নদীর বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছ ঘাট-সংলগ্ন এলাকায়।
আকতার হোসেন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তার মরদেহ হিজলা উপজেলা হাসপাতালে ছিল।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মা ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন বুধবার শেষ রাতে মেঘনা নদীতে জেলেদের সঙ্গে নৌ-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন নামমাত্র ঢিলেঢালা অভিযানে পরিচালনা করা হলেও শেষদিনের কঠোরতা প্রমাণে এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটান হয়েছে।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেএম মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, জেলে মৃত্যুর বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানতে পেরেছেন। বুধবার রাতে তাদের কোনো অভিযানিক দল মেঘনা নদীতে যায়নি। তাদের স্পিডবোট বিকল থাকায় ছোট ট্রলার নিয়ে গত দুদিনে সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্য কোনো জেলার অভিযানিক দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে থাকতে পারে।
হিজলা থানার ওসি সোলাইমান হোসেন জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাচ্ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় জেলে ও অভিযানিক দলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। আত্মরক্ষার্থে অভিযানিক দলের ছোড়া গুলি আকতার হোসেনের বুকে লাগে। পাশাপাশি আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুলিবিদ্ধ আকতার হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর আহত জেলেরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
মেমোনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন জেলে তাকে খবর দিয়েছে মেঘনা নদীতে এক জেলেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। কে বা কারা গুলি করেছে সে বিষয়টি জানা যায়নি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে