প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ এএম আপডেট: ৩০.১০.২০২৬ ১২:১৪ এএম
ছবি : সময়ের আলো চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফণী খালের পাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাটি কাটার চক্রের সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের শোভনছড়ি এলাকা পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর। এ সময় ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দেকে উদ্দেশ করে ফোনে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে চলে যান, আপনারা এখানে কী করেন?’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুয়াবিল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শোভনছড়ি এলাকায় ফণী খালের পাড়ের বিভিন্ন অংশ থেকে মাটি কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় যুবদল নেতা মালেক, রুবেল ও রহিম বাদশাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের তীরবর্তী কয়েকটি পরিবারের বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, মাটি কাটা বন্ধে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ওই এলাকায় লাল নিশান টাঙানো হয়েছিল। কিন্তু সেই নিশান সরিয়ে বা ফেলে দিয়ে আবারও মাটি কাটার কাজ শুরু করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শনের যান ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর। তিনি মাটি কাটার বিষয়ে ওসির কাছে জানতে চান এবং
একপর্যায়ে তিনি মাটি কাটার চক্রের সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
তবে ওসি বিপুল চন্দ্র দের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাটি কাটা চক্রের সাথে পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এর আগে কোনো পক্ষই বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেনি।
এরআগে গত ১০ অক্টোবর শোভনছড়ি ও ফণী খালসংলগ্ন আটটি স্থান থেকে প্রায় ৩০ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করেছিল উপজেলা প্রশাসন। একই এলাকায় ১৩ অক্টোবরও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বাণিজ্যের অভিযোগ সামনে আসে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রহমত উল্যাহ জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা খালের পাড় কাটা বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষা এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সময়ের আলো/এমকে