নাহিদ-হাসানদের মনে ধরেছে বিশপের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলা

একসময় বাংলাদেশের পেস আক্রমণে ভরসা করার মতো বোলার ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গতি ও বাউন্সে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মতো

2026-10-30T04:51:18+00:00
2026-10-30T04:51:18+00:00
 
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
খেলা
নাহিদ-হাসানদের মনে ধরেছে বিশপের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫১ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
একসময় বাংলাদেশের পেস আক্রমণে ভরসা করার মতো বোলার ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গতি ও বাউন্সে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মতো পেসারের অভাব ছিল স্পষ্ট। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশের পেস বোলিং এখন অনেকটাই বদলে গেছে। নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ, শরীফুল ইসলাম, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের মতো পেসাররা নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। টেস্টে এখন এক-দুজনের ওপর নির্ভর না করে পাঁচ-ছয়জন পেসার থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। পেস বোলিংয়ের এই পরিবর্তন মুগ্ধ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ও চলতি সিরিজের ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপকে।

বিশপের মতে, বিদেশের মাটিতে টেস্ট জিততে হলে শুধু স্পিনার কিংবা একজন পেসারের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রয়োজন একাধিক কার্যকর পেসার। সেই জায়গায় বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মনে করেন ক্যারিবীয় এই সাবেক পেসার। বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদের উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিশপ। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের সময় বাংলাদেশের ফিল্ডিং সাজানোর ধরন তার নজর কেড়েছে। তিন সিøপ ও একজন গালি ফিল্ডার নিয়ে আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজানোকে তিনি দেখছেন বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে।

বিশপ বলেন, ‘এটা অসাধারণ। হাসান মাহমুদ যখন বোলিং করছিল, তখন আমরা তিন স্লিপ ও একজন গালি ফিল্ডার নিয়ে একটি দৃশ্য ধারণ করেছি। এমন দৃশ্য আপনি অস্ট্রেলিয়া কিংবা পুরোনো সময়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ের সঙ্গে মেলাতে পারতেন। এখন বাংলাদেশের কাছ থেকেও সেটি দেখা যাচ্ছে।’ একসময় বাংলাদেশের পেস আক্রমণে তালহা জুবায়ের কিংবা মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার মতো কয়েকজনের ওপরই মূলত নির্ভর করতে হতো। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। পেসারদের সংখ্যা ও বিকল্প বেড়েছে, বেড়েছে প্রতিযোগিতাও। বিশপের চোখে, বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই অগ্রগতি দেশের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিষয়টি আনন্দের। একসময় তালহা জুবায়ের ছিলেন, যিনি এখন পেস বোলিং কোচ বা সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন, ছিলেন মাশরাফি বিন মোর্ত্তজাও। আর এখন আপনার হাতে বেছে নেওয়ার মতো পাঁচ-ছয়জন পেসার রয়েছে।’ বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে এই পরিবর্তনের পেছনে স্থানীয় ক্রিকেটারদের উন্নতির পাশাপাশি বিদেশি কোচদের অবদানও দেখছেন বিশপ। সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ও পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন এবং শন টেইটের মতো কোচদের কাছ থেকে বাংলাদেশ সহায়তা পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি বিদেশি কোচদের আগ্রহ ও ভালোবাসাও এই সহযোগিতার একটি দিক।


বিশপ বলেন, ‘বাংলাদেশ পেসার খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে সঠিক পথে এগিয়েছে। ওটিস গিবসন, শন টেইটদের মতো কয়েকজনের কাছ থেকেও কিছুটা সহায়তা পেয়েছে। এটাই দেখায়, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দেশের বাইরের মানুষ কতটা ভালোবাসে।’ টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের মাঠে সাফল্য পেতে পেস বোলিংয়ের গভীরতা গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক মানসম্পন্ন পেসার থাকলে বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় চাপ ধরে রাখাও সহজ হয়। বিশপের বক্তব্যে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ সেই সক্ষমতা তৈরির পথে এগোচ্ছে।

নাহিদ রানার গতি, হাসান মাহমুদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং তাসকিন আহমেদের অভিজ্ঞতা— সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে এখন একাধিক বিকল্প রয়েছে। বিশপের চোখে, এই পরিবর্তন কেবল কয়েকজন বোলারের ব্যক্তিগত উন্নতি নয়; বরং বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সামগ্রিক অগ্রযাত্রারও প্রতিফলন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 

  বিষয়:   নাহিদ  হাসান  বিশপ 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: