চীনের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে ৩৩ শীর্ষ কর্মকর্তা বহিষ্কৃত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি থেকে ৩৩ জন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন দেশটির

2026-10-30T19:45:25+00:00
2026-10-30T20:00:22+00:00
 
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে ৩৩ শীর্ষ কর্মকর্তা বহিষ্কৃত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম 
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কৃত ৩৩ শীর্ষ কর্মকর্তা। সংগৃহীত ছবি
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি থেকে ৩৩ জন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন দেশটির সাবেক একজন শীর্ষ কূটনীতিক এবং প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সাবেক সামরিক সচিব।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আগামী বছর চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার প্রস্তুতির মধ্যেই শি চিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পদক্ষেপ হিসেবে এই বহিষ্কারকে দেখা হচ্ছে।

কমিউনিস্ট পার্টির ভাষ্য অনুযায়ী, পলিটব্যুরো আগেই এসব কর্মকর্তাকে দল থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় কমিটি সেই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এমন কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে, যারা কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন লিউ জিয়ানচাও। তিনি চীনের জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্রবিষয়ক কর্মকর্তা এবং কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর আকস্মিকভাবে ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। 

তালিকায় আরও রয়েছেন ঝং শাওজুন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এক দশকের বেশি সময় ধরে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে শির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। এই কমিশন চীনের সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নিয়ন্ত্রণ করে। 
তাইওয়ানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাকাডেমিয়া সিনিকার গবেষক ওয়েন-সুয়ান সাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ে গবেষণা করেন। তার মতে, এবারের বৈঠকের মধ্য দিয়ে শি জিনপিং এমন অনেক কর্মকর্তাকে দল থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, যাদের ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি নিজেই পদোন্নতি দিয়েছিলেন। 

এবারের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সাধারণত বছরে একবার অনুষ্ঠিত হওয়া নীতিনির্ধারণী এই সভায় দলটির বিবৃতি অনুযায়ী, উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২৭৯ জন। অথচ ২০২২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসের মাধ্যমে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের সময় সদস্য ছিলেন ৩৭৬ জন। অর্থাৎ চার বছরে প্রায় ১০০ জন কর্মকর্তা কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন।

এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শুদ্ধি অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষক ওয়েন-সুয়ান সাই।

কমিউনিস্ট পার্টি জানিয়েছে, ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তাদের পরবর্তী কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শি চিনপিং দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চতুর্থবারের মতো পাঁচ বছরের মেয়াদ পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তা হলে তার শাসনকাল অন্তত ২০ বছরে পৌঁছাবে। কয়েক দশকের মধ্যে তিনিই হবেন চীনের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা এবং প্রভাবশালী নেতাদের একজন। 


প্রায় ১৪ বছর আগে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কমিউনিস্ট পার্টি, সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোতে দুর্নীতি এবং অবিশ্বস্ততা দূর করতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছেন শি জিনপিং। সম্প্রতি তিনি অভিযোগ করেছেন, এখনো অনেক কর্মকর্তা অবিশ্বস্ত এবং ঘুষের প্রলোভনে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির এবারের বৈঠকেও কর্মকর্তাদের কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি আরও জোরদার করতে হবে। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব আগেও দিয়েছে। প্রায় এক দশক আগে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেও একই ধরনের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। 

এবারের বৈঠকে বড় ধরনের পদোন্নতি পেয়েছেন মাত্র একজন। তিনি জেনারেল ঝাং শেংমিন। সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতি ও অবিশ্বস্ততার অভিযোগে তদন্ত এবং কর্মকর্তাদের অপসারণের বিষয়টি তদারকি করেছেন তিনি। তাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সংগঠন পলিটব্যুরোর সদস্য করা হয়েছে। এই সংগঠনটি ২০ জনের বেশি শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিয়ে গঠিত।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটির ৩৩ সদস্যকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও নিশ্চিত করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন ঝাং ইউশিয়া, যিনি একসময় চীনের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ জেনারেল ছিলেন। তদন্তের অংশ হিসেবে গত জানুয়ারিতে তাঁকে আটক করা হয়।

ঝাং শেংমিনের পদোন্নতিকে সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন গবেষক ওয়েন-সুয়ান সাই। তার আশঙ্কা, ভবিষ্যতে আরও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   চীন  কমিউনিস্ট পার্টি  কর্মকর্তা 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: