প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ পিএম
হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ। ছবি : এনডিটিভি ভারতের উত্তরাখণ্ডে যাত্রীবাহী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে চামোলি জেলার যোশীমঠ-বদ্রীনাথ রুটে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তুষারপাতের মধ্যে দুপুর ১টা ১৪ মিনিটের দিকে বদ্রীনাথ থেকে উড্ডয়ন করে হেলিকপ্টারটি। উড্ডয়নের পর হাতি পর্বত এলাকার কাছে সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে মারওয়ারি সেতুর কাছে জেপি পাওয়ার হাউসের পাশে একটি পাহাড়ের ঢালে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
নিহতরা হলেন প্রতাপা, অরুণ, শঙ্কর গৌড়া, সুধীর কে, এইচএস নটরাজ এবং পাইলট ক্যাপ্টেন হিমাংশু। তাদের সবাই পুরুষ।
উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এক বিবৃতিতে জানায়, ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের ভিটি-এইচসিএক্স কলসাইনযুক্ত হেলিকপ্টারটি বদ্রীনাথ থেকে দেরাদুনের সহস্রধারার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। যোশীমঠ উপত্যকার ওপর দিয়ে উড়ার সময় হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। একই সময়ে ট্র্যাকিং সিস্টেমেও সেটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশনের পুরো বহর উড্ডয়ন থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
দুর্ঘটনার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেন, তিনি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চারধাম এলাকায় আটটি দুর্ঘটনা ও একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সাল থেকে প্রতি বছর অন্তত একটি দুর্ঘটনা বা গুরুতর ঘটনার রেকর্ড রয়েছে।
এএআইবি জানায়, গত বছর চারটি দুর্ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে দুটি ছিল প্রাণঘাতী। এক বছরে ওই এলাকায় এটিই সর্বোচ্চ দুর্ঘটনার সংখ্যা।
এর আগে গত বছরের জুনে কেদারনাথ মন্দির থেকে গুপ্তকাশী যাওয়ার পথে একটি হেলিকপ্টার বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হলে সাতজন নিহত হন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ