যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত ইরানের সরকার উৎখাতের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেদের ক্ষমতার মসনদই হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে কোনো জোট এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি। বিরোধী নেতা গাদি আইসেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব দলগুলোর জোট পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ভাষায়, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই এখন চরম সংকটে।
সংকটের মূল কারণ, সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিতে হবে, অথবা বিরোধী জোটের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। কিন্তু তার জোটের উগ্র ডানপন্থী শরিকরা আরব কিংবা বামপন্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের জোটে যেতে রাজি নয়। বিশেষ করে ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন দল সাতটি আসন পাওয়ায় সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টের দাবি, আইসেনকোটের বিরোধী জোট যেভাবেই হোক সরকার গঠন করবে'। তার ধারণা, আইসেনকোটের জোট আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রাম পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে নেতানিয়াহু বিরোধীদের সরকার গঠনের পথ আটকে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে আবার নির্বাচন হতে পারে।
নেতানিয়াহু নির্বাচনে সরাসরি হারেননি, কিন্তু সরকার গঠনের পথও তার জন্য সহজ নয়। একসময় তার ক্ষমতার প্রধান ভরসা হয়ে ওঠা উগ্র ডানপন্থীরাই এখন তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।
রয়টার্সের এক জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন মাত্র ৩২ শতাংশে নেমেছে। একই জরিপে জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৫৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে ৪৪ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটারের সমর্থন দেখা গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির উচ্চ দাম নিয়ে অসন্তোষও নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে পারে তার সরকার। ফলে ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ।
সময়ের আলো/এমকে