প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
সংগৃহীত ছবিসৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরানে বৃহস্পতিবার আগাম সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। যদিও বেশ কিছু সময় পর সংস্থাটি জানায়, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে বাসিন্দাদের সতর্ক করতে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে কী ধরনের হুমকি ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। খবর আনাদুলুর।
এর আগে ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে প্রতিহত করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবারও জোটটি জানায়, পশ্চিম সৌদি আরবের তায়েফ শহর লক্ষ্য করে ছোড়া হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতেও হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র দুটির ধ্বংসাবশেষ রাজধানী রিয়াদে একটি ভবন, নির্মাণাধীন প্রকল্প ও একটি যানবাহনের ক্ষতি করেছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে সংস্থাটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনা ঘটল।
এদিকে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সৌদি আরবে কর্মরতদের মধ্যে ‘জরুরি নয়’ এমন মার্কিন সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। তারা বলছে, ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের দেশটির কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হলে মিশন প্রধানের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের নাগরিকদের সম্ভাব্য বিমানবন্দর হামলা, আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে এবং ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য এলাকা দখল করে নেওয়ার পর, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ