ইউক্রেনের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনটির দিনিপ্রো থেকে জাপোরিঝঝিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। ছবি : এনডিটিভি ইউক্রেনের দিনিপ্রো রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ট্রেনটি দিনিপ্রো থেকে জাপোরিঝঝিয়ার উদ্দেশে যাওয়ার কথা ছিল। এ সময় জেটচালিত একটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া। হামলার সময় ট্রেন নম্বর ৮৬৬ প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করছিল।
পোস্টে বলা হয়, ওই এলাকায় উচ্চমাত্রার হামলার সতর্কতা জারি থাকলেও প্ল্যাটফর্মে লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জেলেনস্কির
রেলস্টেশনে এই হামলাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাশিয়ার কয়েকজন ধনকুবের ও দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর থেকে ইউক্রেনের মানুষের ওপর রাশিয়া কতবার হামলা চালিয়েছে।
দিনিপ্রোর মেয়র বরিস ফিলাতভও এ ঘটনাকে শহরের জন্য একটি ট্র্যাজেডি বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, একটি বেসামরিক বৈদ্যুতিক ট্রেনে ড্রোন আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনের রেল অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা
ইউক্রেনের রেল অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলা নতুন নয়। গত মাসেও ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাজ্য ও সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিদেশি কর্মকর্তা ওই এলাকা অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর হামলাটি হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার নতুন জেটচালিত ড্রোনগুলোকে গুলি করে ভূপাতিত করা কঠিন। এসব ড্রোন দিয়ে বিপণিবিতান, জ্বালানি স্টেশন, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান উক্রজালিজনিতসিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত রাশিয়া দেশটির ১ হাজার ৭০০টির বেশি রেল অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে রেলস্টেশন, লোকোমোটিভ ও যাত্রীবাহী বগি।
এ হামলা ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ধারাবাহিক আক্রমণের মাত্রা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ