জেরুজালেমের মাহানে ইয়েহুদা বাজারের বাইরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি-সংবলিত ছেঁড়া নির্বাচনী প্রচারপোস্টার দেখা যায়। ছবি : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন কোনো জোটই নিশ্চিত করতে পারেনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল যৌথভাবে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দল দুটি হলো ইউসেফ জাবারিনের নেতৃত্বাধীন দ্য জয়েন্ট লিস্ট এবং মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম। এই ফলের ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দল দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত অধিকাংশ জনমত জরিপে আইজেনকোটের জোটকে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপেও তাদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত ছিল। তবে ভোট গণনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে চিত্র বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর দল ও তার জোট এগিয়ে যায়।
আসনসংখ্যার হিসাবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৬টি আসন। আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি আসন। এ ছাড়া নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াখাদ ও দ্য জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১২টি করে আসন। বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পেয়েছে আটটি আসন।
অন্যদিকে, উগ্র ডানপন্থী ওতজমা ইয়েহুদিত, অতি-গোঁড়া ইহুদিদের শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, রা’আম এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু— প্রতিটি দল পেয়েছে সাতটি করে আসন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি পেয়েছে ছয়টি আসন।
নেতানিয়াহুর জোটে রয়েছে লিকুদ, শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, ওতজমা ইয়েহুদিত ও রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি। বর্তমানে দেশটির পার্লামেন্টে এই জোটের ৬৮টি আসন থাকলেও এবারের নির্বাচনে তা কমে ৫৩টিতে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, আইজেনকটের জোটে রয়েছে ইয়াশার, বি’ইয়াখাদ, ডেমোক্র্যাটস ও ইসরায়েল বেইতেনু। তাদের সম্মিলিত আসন ৪৮টি।
সরকার গঠনের জন্য উভয় জোটকেই এখন নতুন সমীকরণ মেলাতে হবে। আরব দল দুটি একসঙ্গে ১৯টি আসন পাওয়ায় নেতানিয়াহুবিরোধী পক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ওই পক্ষের অধিকাংশ দলই রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে জোট গঠনে আপত্তি জানিয়েছে। ফলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখনো প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার বিশেষ ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে। এসব ভোটের মধ্যে সেনাসদস্য, কারাবন্দি, বিদেশে কর্মরত কূটনীতিকসহ নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দিতে না পারা ব্যক্তিদের ভোট রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব ভোট গণনা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ৪ নভেম্বর। বাকি ভোটে আসনসংখ্যায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলে কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ