সংগৃহীত ছবিব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো— বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ফ্লাভিও বলসোনারো ও তাঁর পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেবে। নির্বাচনে ফ্লাভিওর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালত অর্থ পাচারের তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাভিওর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার এক দিন পর, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এ তথ্য সামনে আসে। তবে ফ্লাভিও যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত সোমবারও তিনি দাবি করেছিলেন, দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বরং ব্রাজিলে থেকেই বিরোধীদের নেতৃত্ব দেবেন।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা এর আগে বলসোনারো পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ কামনার অভিযোগ তুলেছিলেন। এবার ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার পদক্ষেপকে লজ্জাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। লুলার মতে, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ফ্লাভিওর ব্রাজিলেই থাকা উচিত ছিল।
রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১তম জন্মদিন উদ্যাপনের সময় লুলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি এভাবে গোপনে দেশ ছেড়ে সটকে পড়ে, নিশ্চিতভাবেই তার কিছু লুকানোর আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্রাজিল বলসোনারো পরিবারের দ্বিতীয় দেশ, আর যুক্তরাষ্ট্র হলো তাদের প্রথম দেশ।’
ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার ঘটনাকে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন লুলা।
সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও নির্বাচনের ফলাফল প্রথমে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ফলাফল বাতিল চেয়ে আদালতে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। তবে গত সোমবার তার দল এক বিবৃতিতে জানায়, তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। নির্বাচনে এই রক্ষণশীল প্রার্থী ৪৪ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি আরেকটি কারচুপির নির্বাচন বলে মনে হচ্ছে।’ তবে ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি ঘটেনি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। লুলার বড় জয়ের পর বিরোধীরা শেষ মুহূর্তে ভোটের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও তা নির্বাচনের ফলাফলে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অবৈধভাবে লবিং করার অপরাধে গত জুনে অনুপস্থিতিতে দণ্ডিত হন ফ্লাভিওর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে এক পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে ফ্লাভিওর ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমি চাই, আমার ভাই যদি না জেতে, তবে সে দেশ ছেড়ে চলে যাক।’
সময়ের আলো/ইউএমএইচ