প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ পিএম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবিইসরায়েলের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও চলমান জোট গঠনের আলোচনা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়াগুলো বন্ধ হবে না। ক্ষমতা হারালেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কিংবা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা বাতিল হবে না। মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বরং প্রধানমন্ত্রীর পদ হারালে নেতানিয়াহু ক্ষমতাসীন সরকারপ্রধান হিসেবে পাওয়া ব্যক্তিগত দায়মুক্তির সুরক্ষা হারাতে পারেন। এর ফলে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের জাতীয় আদালতে ব্যক্তিগত ফৌজদারি বিচারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। গাজায় যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধার ব্যবহার, হত্যা ও নিপীড়নসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির ৫৮(৪) ধারা অনুযায়ী, আদালত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকে। আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দায়িত্বে থাকাকালে বিদেশি জাতীয় আদালতের বিচার ও গ্রেপ্তার থেকে ব্যক্তিগত দায়মুক্তি ভোগ করেন। তবে এ সুরক্ষা স্থায়ী নয়; পদ ছাড়ার পর তা আর প্রযোজ্য থাকে না। সাবেক নেতাদের ক্ষেত্রে সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কাজের জন্য সীমিত দায়মুক্তি বহাল থাকতে পারে। তবে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচারের বিষয়টি আলাদা।
ফ্রান্স, ইতালি ও হাঙ্গেরির মতো কয়েকটি দেশ অতীতে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তাঁর সরকারপ্রধান হিসেবে দায়মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেছে। ক্ষমতা ছাড়লে তিনি সেই কূটনৈতিক ও আইনি সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হারাতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর বিভিন্ন দেশের জাতীয় আদালতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার সুযোগও বাড়তে পারে। বিশ্বের অনেক দেশে ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’ বা সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ারের আওতায় অন্য দেশে সংঘটিত নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধের বিচার করার বিধান রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, গাজাগামী ত্রাণবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় তুরস্কের আদালতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ব্যক্তিগত দায়মুক্তির সুরক্ষা উঠে গেলে এ ধরনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারের আইনি বাধা কমতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ