প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীতবিয়ে ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। তবে এসব উপহারের প্রকৃত মালিক কে হবেন, তা অনেক সময় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে উপহারের মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে উপহারদাতার উদ্দেশ্য এবং সমাজের প্রচলিত রীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কোনো উপহার যদি নির্দিষ্ট কাউকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়, তাহলে সেই ব্যক্তিই উপহারের মালিক হবেন। উপহারদাতা যদি কারও নাম উল্লেখ করে উপহার দেন, তাহলে সেটি তাঁরই সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। যেমন, বিয়েতে কোনো উপহার মেয়ের নামে দেওয়া হলে কিংবা মেয়ের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কোনো জিনিস দেওয়া হলে সেটির মালিক হবে মেয়ে। তার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ সেই উপহার নিতে পারবেন না।
তবে যেসব উপহার নির্দিষ্ট কারও নামে দেওয়া হয় না, সেগুলোর মালিকানা নির্ধারিত হবে সমাজের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী। কোনো সমাজে যদি বিয়ে বা এ ধরনের অনুষ্ঠানে অনির্দিষ্টভাবে দেওয়া উপহার অভিভাবকদের দেওয়ার প্রচলন থাকে, তাহলে অভিভাবকরাই সেসব উপহারের মালিক হবেন। উপহার নগদ অর্থ, ঘরে ব্যবহারের সামগ্রী কিংবা অন্য কোনো জিনিস—যা-ই হোক না কেন, এ ক্ষেত্রে একই বিধান প্রযোজ্য হবে। আবার কোনো সমাজে যদি ভিন্ন রীতি প্রচলিত থাকে, তাহলে সেই রীতিই গ্রহণযোগ্য হবে।
তবে বর্তমানে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ও আয়োজন দেখা যায়, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে সহিহ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি একটি কুপ্রথার অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে উপহার গ্রহণ এবং সেগুলোর নিবন্ধন করার আয়োজন শরিয়তপরিপন্থী হওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টিকটুও।
সুতরাং বিয়েতে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে উপহারদাতার উদ্দেশ্য, প্রাপকের পরিচয় এবং সমাজের প্রচলিত রীতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে উপহার গ্রহণের নামে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও কুপ্রথা পরিহার করা উচিত।
সূত্র : আলমুহিতুল বুরহানি : ৯/১৮০; ফাতাওয়া আলমগীরি : ৪/৩৮৩; আদ্দুররুল মুখতার : ৫/৬৯৬।
সময়ের আলো/এসএকে