ছবি : সংগৃহীতঅরাজনৈতিক ইসলাহি সংগঠন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ৮২ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাদ ফজর থেকে শুরু হওয়া ইজতেমায় লাখো মানুষের ঢল নামে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আমির আল্লামা রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী (পীর সাহেব বরুণা)।
ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পীর সাহেব বরুণার ভক্ত মুরিদানরা বাস-ট্রেন ভর্তি করে শুক্রবার ফজরের আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছান। শেষ রাতে তাহাজ্জুদ, জিকির-আজকার ও রোনাজারির আমলে শরিক হতে মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত ঢল নামে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণাতীতকালের বৃহৎ জুমার জামাত। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ লক্ষাধিক মুসল্লি এতে অংশগ্রহণ করেন।
সভায় আলোচনা করেন আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, আওলাদে রাসুল সা. সাইয়্যিদ ফয়সাল নাদিম, খেলাফত মজলিস মনোনীত সিলেট-৫ আসনের এমপি মুফতি আবুল হাসান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা আকরাম আলী ফরিদপুর, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী, মুফতি ইমাদুদ্দীন ফরিদাবাদ, হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী, মুফতি সাইফুল ইসলাম ফারুকীসহ আঞ্জুমানের জেলা উপজেলার নেতারা।
সঞ্চালনা করেন আঞ্জুমানের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শেখ সাদ আহমদ আমীন বর্ণভী, মুফতি ওয়াজেদ আলী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী।
সংগঠনটির আমির পীর সাহেব বরুণা তার বয়ানে বলেন, ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে শায়খুল ইসলাম আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহ. আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে দ্বীনি ও ইসলাহি মেহনতের সূচনা করেছিলেন, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা অনুসরণ, সুন্নতের অনুশীলন, আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিক চরিত্র গঠনের প্রতি আহ্বান জানানো। তার রেখে যাওয়া এ ইসলাহি ধারার যথাযথ পরিচর্যা ও অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এ মেহনত কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক নয়; বরং মানুষের জীবনে দ্বীনের শিক্ষা বাস্তবায়ন এবং ব্যক্তি ও সমাজের সংশোধনে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার নাম।
আসরের পর পীর সাহেব বরুণার অশ্রুসিক্ত মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। তিনি দেশ জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করেন।
সময়ের আলো/এসএকে