সংগৃহীত ছবিসৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের গোপনে সহায়তা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এমনকি ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে হুতিদের গোয়েন্দা তথ্যও সরবরাহ করছে আবুধাবি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজের এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাত-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সদস্যরা হুতিদের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সহায়তা করছেন। অন্যদিকে, আবুধাবি বিষয়টি জেনেও নীরব ভূমিকা পালন করছে। দুটি সূত্রের দাবি, আমিরাত সরাসরি হুতিদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে, যাতে তারা ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারে।
দুই পক্ষের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত ইয়েমেনের এক সূত্র ড্রপ সাইট নিউজকে বলেন, আমিরাত সানাভিত্তিক সরকারের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের পথ এখনো খোলা রয়েছে। ওই সূত্র আরও জানান, হুতিরা আমিরাতের প্রতি অনুগত সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগের নিজস্ব চ্যানেল গড়ে তুলেছে। তবে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সূত্রগুলো নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
আমিরাত ও হুতিদের মধ্যে কথিত এই সহযোগিতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আদর্শিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর বিরোধ রয়েছে। আবুধাবি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে। অন্যদিকে, হুতিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে ইয়েমেনে সৌদি আরব আমিরাতকে কোণঠাসা করার পর দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে আংশিক মিল তৈরি হয়েছে। এর ফলে ইয়েমেনে নিজেদের কৌশলগত প্রভাব পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেখছে আবুধাবি।
এমন সময় এই খবর সামনে এল, যখন সৌদি আরবে হুতিদের হামলা এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সংঘর্ষ আরও তীব্র হচ্ছে। বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, এমনকি দেশটির প্রধান বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলার জেরে ‘মরুভূমির দাভোস’ নামে পরিচিত ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সম্মেলনও বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, হুতিরা তায়েজ শহর ঘিরে অবরোধ আরও জোরদার করছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। কর্মকর্তাদের দাবি, শহরটিতে লড়াই বেড়েছে, আবাসিক এলাকায় হামলা হচ্ছে এবং পানির সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে এসব দাবির কয়েকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি ও আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে কায়রো। তবে মিসর জানিয়েছে, এই সহায়তা সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। অন্যদিকে, ইরান বলেছে, বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
সৌদির বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় ছয় দফা হামলার দাবি
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ছয় দফায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানে সৌদি ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এক বিরল বৈঠকের পরও এ হামলার দাবি সামনে এল। ওই বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে আঞ্চলিক বিরোধগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
তবে ইতিবাচক বক্তব্যের পরও হুতি বাহিনী সৌদি আরব এবং ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতি বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি ছয়টি হামলার দাবি করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো সৌদি আরবের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল থেকে রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ