সংগৃহীত ছবিগরুর ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে হিন্দু শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ২৭৭ কেজি গোমাংসসহ গ্রেফতার হওয়া তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ভারতের গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার একটি আদালত। গোহত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাদের এ সাজা দেওয়া হয়।
১৯৫৪ সালের গুজরাট প্রাণী সংরক্ষণ আইনের ২০১৭ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে রাজ্য সরকার গোহত্যার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করে। এর মধ্য দিয়ে গুজরাট ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে গোহত্যার অপরাধে এমন কঠোর শাস্তির বিধান চালু করে।
রায়ে অতিরিক্ত দায়রা জজ বি. আর. রাজপুত দণ্ডপ্রাপ্ত তিন ব্যক্তি ওয়াসিম কুরেশি, মোহাম্মদ রফিক কুরেশি ও আশফাক বাহেলিমকে তিন লাখ টাকা করে জরিমানাও করেছেন।
প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থ মনুসংহিতার উদ্ধৃতি দিয়ে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, গরু কেবল একটি প্রাণী নয়, এটি পার্থিব সমৃদ্ধি ও ‘ধর্মের’ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। গরুকে ‘জগতের মাতা’ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটি ৩৩ কোটি দেব-দেবীর আবাসস্থল। গরুর চার পা চার বেদের প্রতীক বলেও আদালত উল্লেখ করেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৭৭ কেজি গোমাংস, গোহত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং মাংস পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়িসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, বাবা ও ছেলে মিলে দুর্বল বা দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া মহিষ কিনতেন। এরপর আর্থিক লাভের আশায় তারা আহমেদাবাদ থেকে চারজনকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসতেন। সেখানে ‘নিষ্ঠুরভাবে পশু জবাই করে’ গোমাংস প্রস্তুত করা হতো।
তদন্তের তথ্য উল্লেখ করে প্রসিকিউশন জানায়, অভিযুক্তরা এসব গোমাংস গোলাম মঈন নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন। বিচার শেষে ছয় আসামির মধ্যে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। অপরাধ প্রমাণে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ৫৪ জন সাক্ষী এবং ১৮টি দাপ্তরিক নথি উপস্থাপন করা হয়।
এদিকে সাজা নিশ্চিত হওয়ায় গান্ধীনগর পুলিশ ও বিচারসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভী। সঠিক তদন্ত ও শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য তাদের প্রশংসা করেন তিনি।
হর্ষ সাঙ্ঘভী বলেন, গুজরাট প্রাণী সংরক্ষণ আইনের অধীনে দেওয়া এই রায় স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, রাজ্যে যারা গোহত্যা করবে, আইন তাদের কখনোই ছাড় দেবে না। গোমাতাকে রক্ষা করা গুজরাটের দৃঢ় অঙ্গীকার। নিখুঁত তদন্ত ও জোরালো প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য গান্ধীনগর পুলিশ এবং সরকারি পক্ষকে অভিনন্দন জানান তিনি।
রাজ্য বিধানসভায় অনুমোদিত গুজরাট প্রাণী সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিলে গোমাংস পরিবহন, সংরক্ষণ বা বিক্রির অপরাধে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে ২০১১ সালে নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে আইনটি সংশোধন করে রাজ্য সরকার গোহত্যা এবং গোমাংস পরিবহন ও বিক্রির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ